লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি ও কমলনগর) আসনের জামায়াত সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী এ আর হাফিজ উল্যার একটি বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে জান্নাত অবধারিত—এমন মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) কমলনগর উপজেলার একটি এলাকায় নির্বাচনী গণসংযোগের সময় দেওয়া এ বক্তব্যের ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। অল্প সময়ের মধ্যেই ভিডিওটি বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ব্যাপকভাবে শেয়ার হতে থাকে। এ আর হাফিজ উল্যাহ জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি এবং লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার বাসিন্দা।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, “আপনারা যদি ইসলামের পক্ষে, কোরআনের পক্ষে দাঁড়ি- পাল্লায় ভোট দেন, তাহলে আপনারা সওয়াবের ভাগীদার হবেন এবং আপনাদের জন্য জান্নাত অবধারিত। আর যদি কোরআনের বিরুদ্ধে ভোট দেন, তাহলে গুনাহগার হবেন।” তার এই বক্তব্যকে অনেকেই ধর্মীয় আবেগকে রাজনৈতিক প্রচারণায় ব্যবহার করার উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।
ভিডিওতে এ আর হাফিজ উল্যাহ আরও দাবি করেন, অন্যান্য প্রার্থীরা নির্বাচিত হলে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি ও সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের মতো কর্মকাণ্ডে জড়াতে পারেন। তবে তার ভাষ্য অনুযায়ী, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীরা এসব অনিয়মে যুক্ত হবেন না। তিনি বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা ও জেলে কার্ড বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরে ভোটারদের কাছে সমর্থন চান।
এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেক নেটিজেন ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং কেউ কেউ বিষয়টিকে ভোটারদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা বলে উল্লেখ করেন। ফেসবুক ব্যবহারকারী মাইন উদ্দীন ভিডিওটি শেয়ার করে লেখেন, “এভাবে দেশের সাধারণ মানুষকে ধোঁকা দেওয়া হচ্ছে। হাফিজ ভাই, আপনি যদি জান্নাতের টিকিট দিতে পারেন, তবে কথা দিচ্ছি আমার প্রথম ভোট আমি আপনাকে দেব।” এ ধরনের ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্যও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে এ আর হাফিজ উল্যাহ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ভাইরাল ভিডিওটি আংশিক ও বিভ্রান্তিকরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তার দাবি, এটি ছিল দলের একটি অভ্যন্তরীণ কর্মসূচির বক্তব্য, যেখানে তিনি বিভিন্ন প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলেছেন। — তিনি বলেন,“ভিডিওটি কেটে জোড়া লাগানো হয়েছে। আমি ঠিক এভাবে বক্তব্য দিইনি । একই সঙ্গে তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদ জানাবেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের সময় ধর্মীয় অনুভূতির সঙ্গে ভোটের সম্পর্ক টেনে আনা বাংলাদেশে নতুন নয়। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ফলে এ ধরনের বক্তব্য দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায় এবং জনমত গঠনে বড় ভূমিকা রাখে। এতে একদিকে যেমন সমর্থন পাওয়া যায়, অন্যদিকে তীব্র সমালোচনাও তৈরি হয়।
Leave a comment