ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও কূটনৈতিক অচলাবস্থার সরাসরি প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসার প্রস্তাব তেহরান আনুষ্ঠানিকভাবে নাকচ করে দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়তে শুরু করেছে। আজ বৃহস্পতিবার লেনদেনের শুরুতে তেলের বৈশ্বিক বেঞ্চমার্ক ‘ব্রেন্ট ক্রুড’-এর দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের মনস্তাত্ত্বিক সীমা অতিক্রম করে ১০৩.৮৫ ডলারে পৌঁছেছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করেছেন যে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে এই মুহূর্তে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনায় বসার পরিকল্পনা তেহরানের নেই। তিনি জানান, তৃতীয় কোনো ‘বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের’ মাধ্যমে কিছু বার্তা আদান-প্রদান হলেও সেটিকে কোনোভাবেই আনুষ্ঠানিক দরকষাকষি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ইরানের এই অনমনীয় অবস্থান বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের এই দাবিকে নাকচ করে দিয়ে দাবি করেছেন, তেহরানের নেতারা আলোচনার বিষয়টি স্বীকার করতে অভ্যন্তরীণ রাজনীতির চাপে ‘ভীত’। ট্রাম্পের মতে, পর্দার আড়ালে যোগাযোগ চললেও ইরান তা জনসমক্ষে প্রকাশ করতে দ্বিধাবোধ করছে। তবে দুই দেশের এই পাল্টাপাল্টি অনড় অবস্থানের কারণে তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণে আসার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
আজকের বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়ব্রেন্ট ক্রুড (Brent Crude): ১.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি ব্যারেলের দাম দাঁড়িয়েছে ১০৩.৮৫ ডলার। ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI): ১.৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৯১.৬১ ডলারে লেনদেন হচ্ছে।
অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, তেলের দাম ১০০ ডলারের উপরে অবস্থান করলে উন্নয়নশীল ও আমদানিকারক দেশগুলোর ওপর মুদ্রাস্ফীতির চাপ অসহনীয় হয়ে উঠবে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি সরবরাহের ঝুঁকি বিদ্যমান থাকায় পরিবহন খরচও বহুগুণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, যতক্ষণ না ওয়াশিংটন ও তেহরান কোনো ন্যূনতম সমঝোতায় পৌঁছাচ্ছে, ততক্ষণ জ্বালানি বাজারের এই অস্থিরতা কমার সম্ভাবনা ক্ষীণ।
Leave a comment