যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটিতে ভয়াবহ শৈত্যপ্রবাহে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সিটির মেয়র জোহরান মামদানি এ তথ্য নিশ্চিত করেন। জানুয়ারির শেষ দিক থেকে শুরু হওয়া দীর্ঘস্থায়ী তীব্র ঠান্ডায় নগরজীবন কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
নিউইয়র্কের আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শহরটিতে টানা ১৩ দিন তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে নেমে ছিল। ১৯৬৩ সালের পর গত ছয় দশকের মধ্যে এটি নিউইয়র্কে সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী শৈত্যপ্রবাহ বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
মেয়র মামদানি বলেন, “গত সপ্তাহান্তে আমাদের শহরের রাস্তায় আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। প্রতিটি মৃত্যু আমাদের জন্য গভীর বেদনার। আমরা নিহতদের পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাই।”
তিনি জানান, নিহত ১৮ জনের মধ্যে অন্তত ১০ জনকে খোলা আকাশের নিচে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। বাকি মৃত্যুগুলোর কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় গত ১৯ জানুয়ারি নিউইয়র্ক সিটিতে ‘কোড ব্লু’ বা জরুরি শীতকালীন সতর্কতা জারি করা হয়। এর আওতায় গৃহহীনদের জন্য আশ্রয়নীতিতে শিথিলতা এনে প্রায় ১,৪০০ জনকে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে। পাশাপাশি অস্থায়ী আশ্রয় হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে অতিরিক্ত ৬৪টি হোটেল কক্ষ। রাস্তায় সহায়তার জন্য আরও ১৫০ জন অতিরিক্ত কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।
মার্কিন জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবা (NWS) জানিয়েছে, আর্কটিক বায়ুপ্রবাহের কারণে বাতাসে তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করেছে। বিশেষ করে হাইপোথার্মিয়া ও ফ্রস্টবাইটের আশঙ্কা বেড়েছে। যদিও চলতি সপ্তাহে তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে, তবে তা স্বাভাবিকের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমই থাকবে।
এদিকে শহরের জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থা তুষারপাত-পরবর্তী নতুন ঝুঁকির কথাও জানিয়েছে। ভবনের ছাদ থেকে বরফখণ্ড পড়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি রাতের বেলায় রাস্তা জমে পিচ্ছিল হয়ে যাওয়ায় যান চলাচলে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত নাগরিকদের অপ্রয়োজনে বাইরে না বেরিয়ে ঘরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন মেয়র।
সূত্র: বিবিসি
Leave a comment