প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালীন একটি হত্যা মামলায় ৫ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সিদ্দিক আজাদের আদালত এই আদেশ দেন।
রিমান্ড শুনানি চলাকালে আসামিপক্ষের আইনজীবীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত তাকে কথা বলার সুযোগ দিলে তিনি বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর দাবি করেন। শেখ মামুন খালেদ বলেন, “ওয়ান-ইলেভেনের সময় আমি কুমিল্লায় ছিলাম। তবে ২০০৭ সালের ১৭ ডিসেম্বর আমার ডিজিএফআইতে পোস্টিং হয়। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যতগুলো মামলায় সে সময় জামিন হয়েছে, প্রায় সব মামলাতেই আমি ব্যক্তিগতভাবে বিচারকদের ফোন করে রেফারেন্স দিয়েছি।”
মিরপুর মডেল থানায় দায়ের করা একটি হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে ডিবি পুলিশ তাকে আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিল। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, “আসামি মামুন খালেদ ফ্যাসিস্ট সরকারের অন্যতম সহযোগী এবং ওয়ান-ইলেভেনের কুশীলব। তিনি ‘আয়নাঘর’ নামক টর্চার সেলের নেপথ্যে ছিলেন এবং জলসিঁড়ি প্রকল্পসহ বিভিন্ন খাতে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে বিদেশে পাচার করেছেন।” রাষ্ট্রপক্ষ আরও অভিযোগ করে যে, খালেদা জিয়াকে সেনানিবাসের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করার পেছনেও এই কর্মকর্তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
পাল্টা যুক্তিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী মোরশেদ হোসেন শাহীন ও নজরুল ইসলাম দাবি করেন, এজাহারে আসামির নাম নেই এবং সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতারের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদানের অভাব রয়েছে। তারা ‘আয়নাঘর’ শব্দটিকে একটি ‘মিডিয়া ওয়ার্ড’ হিসেবে অভিহিত করে এতে মামুন খালেদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেন।
শুনানিতে নিজের পক্ষে সাফাই গেয়ে মামুন খালেদ আরও বলেন, জলসিঁড়ি প্রকল্পের পাওনা টাকা উদ্ধারের দায়িত্ব পালন করেছেন মাত্র। এছাড়া জুলাই অভ্যুত্থানের সময় তিনি ডিওএইচএস এলাকায় অবস্থান করে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করেছেন বলে দাবি করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “২০২৪ সালে আমি একজন সাধারণ বেসামরিক ব্যক্তি ছিলাম, আমার কথায় কে গুলি করবে?”
উল্লেখ্য, বুধবার দিবাগত রাতে রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। বর্তমানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
Leave a comment