ভোটের মাঠে বিরাজমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিএনপির পক্ষে বলে দাবি করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল । তার ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানই দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে নির্বাচনী প্রচারণার শেষ দিনে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের চৌরঙ্গী বাজারে আয়োজিত এক পথসভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত সভায় জাতীয় রাজনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন বিএনপি মহাসচিব।
মির্জা ফখরুল বলেন, ভোটের মাধ্যমে যে জাতীয় সংসদ গঠিত হবে, সেই সংসদই আগামী পাঁচ বছর দেশের আইন প্রণয়ন ও রাষ্ট্র পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি উল্লেখ করেন, সংসদে যে দল বা জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করবে, তারাই সরকার গঠন করবে এবং রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেবে।
তার বক্তব্যে উন্নয়ন ও শাসনব্যবস্থার প্রসঙ্গও উঠে আসে। তিনি বলেন, কোথায় উন্নয়ন হবে এবং কীভাবে তা বাস্তবায়িত হবে—এই সিদ্ধান্ত সরকারের হাতে থাকে। জনগণের সমর্থন ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সভায় উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, “আজ বাংলাদেশে যে রাজনৈতিক হাওয়া আমরা পাচ্ছি, তাতে স্পষ্ট—বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন, ইনশাআল্লাহ।”
তার এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও নির্বাচন-পরবর্তী ফলাফল ভোটারদের রায়ের ওপর নির্ভর করবে—এ বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন।
বক্তব্যের একপর্যায়ে মির্জা ফখরুল জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় দলটির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ১৯৭১ সালে দেশের স্বাধীনতার পক্ষে তারা অবস্থান নেয়নি—এমন অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “যে দল স্বাধীনতার পক্ষে ছিল না, তাদের হাতে রাষ্ট্রের দায়িত্ব দেওয়া যায় না।”
তার এই বক্তব্যে তিনি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট টেনে আনেন এবং বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগিতার অভিযোগে জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে।
সভা শেষে বিএনপি মহাসচিব দলীয় প্রতীক ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দেশকে বাঁচাতে, গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা রক্ষা করতে হলে ভোটারদের সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
Leave a comment