শীতার্ত মানুষের সহায়তার উদ্দেশ্যে আয়োজিত এক সংগীতানুষ্ঠানে বিনামূল্যে সিগারেট বিতরণের ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে অনুষ্ঠিত ‘কুয়াশার গান’ শীর্ষক এই কনসার্টে স্মোকিং জোনে ফ্রি সিগারেট বিতরণ করা হয়, যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ শিক্ষাঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও ‘স্পিরিট অব জুলাই’ নামের একটি প্ল্যাটফর্মের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই দাতব্য কনসার্টের উদ্দেশ্য ছিল শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো। এর আগে গত ১৫ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে কনসার্টের ঘোষণা দেওয়া হয় এবং ১৭ জানুয়ারি বিকেল থেকে কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে অনুষ্ঠান শুরু হয়। তবে আয়োজন চলাকালীন মাঠের ভেতরে নির্ধারিত স্মোকিং জোনে বিনামূল্যে সিগারেট বিতরণের দৃশ্য সামনে আসতেই বিতর্ক শুরু হয়।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। বিজয় একাত্তর হলের শিক্ষার্থী সাকিব বিশ্বাস এক পোস্টে লেখেন, “ডাকসু কর্তৃক আয়োজিত কনসার্টে আজ একটি লজ্জাজনক ঘটনা ঘটেছে। ডাকসু কি ঢাবি শিক্ষার্থীদের মাদক সেবনে মোটিভেট করছে? একদিকে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান, অন্যদিকে মাদক সেবনে উৎসাহ—এ কেমন দ্বিচারিতা?”
রোকেয়া হলের শিক্ষার্থী মোছাম্মৎ আছিয়া আক্তারও বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, কনসার্টের স্পন্সর একটি তামাকজাত পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বলে জানতে পেরে তিনি বিস্মিত। তার ভাষায়, “একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কনসার্টে ফ্রি বিড়ি বা সিগারেট বিতরণ—এটা কল্পনাও করা যায় না।” তিনি ধূমপান ও তামাক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ২০২৫ অনুযায়ী পাবলিক প্লেসে ধূমপানের জরিমানার বিষয়টিও উল্লেখ করেন।
কনসার্ট চলাকালে আরেকটি বিতর্কিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ বিভিন্ন রাজনৈতিক স্লোগান দেন ও গণভোটের পক্ষে প্রচারণা চালান। এ সময় শিক্ষার্থীদের একাংশ ব্যঙ্গাত্মক পাল্টা স্লোগান দেয়, যা অনুষ্ঠানের পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।
সিগারেট বিতরণসহ কনসার্টের সামগ্রিক অব্যবস্থাপনা নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়ে পরে দুঃখ প্রকাশ করেন ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ। তিনি বলেন, স্পন্সরের সঙ্গে যোগাযোগ বা শর্ত নির্ধারণে তিনি ব্যক্তিগতভাবে যুক্ত ছিলেন না এবং পুরো ডাকসু এই আয়োজনে সম্পৃক্ত ছিল না। তার দাবি, শিক্ষার্থীদের একাংশের প্রত্যাশা পূরণের উদ্দেশ্যে তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে ‘স্পিরিট অব জুলাই’-এর সঙ্গে যৌথভাবে কনসার্ট আয়োজন করেন, যদিও এতে ডাকসুর ভাইস প্রেসিডেন্টসহ একাধিক নেতা আপত্তি জানিয়েছিলেন।
তিনি আরও জানান, স্পন্সর প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে স্মোকিং জোনে বিনামূল্যে সিগারেট বিতরণের বিষয়টি তার অজানা ছিল এবং বিষয়টি জানতে পারার আগেই ঘটনা ঘটে যায়। এ ঘটনার জন্য তিনি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে আরও দায়িত্বশীল ও সতর্ক ভূমিকা পালনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং ছাত্রসংগঠনের দায়িত্বশীল ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে
Leave a comment