মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘গঠনমূলক আলোচনা’র দাবিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। আলোচনার খবরকে ‘ভুয়া’ ও ‘ভিত্তিহীন’ আখ্যা দিয়ে সোমবার দিবাগত রাতে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে দেশটি। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এই হামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দাবি করেছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের ‘শত্রুতার চূড়ান্ত অবসান’ নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে। এই আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি ইরানের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি গ্রিডে বোমা হামলার হুমকি পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত করার ঘোষণা দেন। ট্রাম্পের এই বার্তার পরপরই বিশ্ববাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে এবং তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের নিচে নেমে আসে
তবে ট্রাম্পের এই দাবিকে কৌশলগত ‘মানসিক যুদ্ধ’ বলে অভিহিত করেছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, আর্থিক ও তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোট যে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে আটকে গেছে, তা থেকে বাঁচতেই ট্রাম্প এই মিথ্যা তথ্য ছড়িয়েছেন।
এর পরপরই ইরান থেকে ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। হামলার সময় তেল আবিবসহ ইসরায়েলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম) সক্রিয় হয়। ইসরায়েলি সামরিক সূত্র জানিয়েছে, উত্তর ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে বেশ কিছু বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
ইরানের প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা মার্কিন লক্ষ্যবস্তুগুলোতে নতুন করে হামলা শুরু করছে। ট্রাম্পের দাবিকে ‘পুরোনো মানসিক কৌশল’ আখ্যা দিয়ে তারা স্পষ্ট করেছে যে, তেহরানের লড়াইয়ে এসব প্রচারণার কোনো প্রভাব পড়বে না।
উভয় পক্ষের এই পরস্পরবিরোধী অবস্থান এবং সরাসরি সামরিক সংঘাতের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আবারও চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
Leave a comment