জামালপুর প্রতিনিধি | জামালপুর সদর উপজেলায় আখ খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে প্লে শ্রেণির ছাত্রী ৫ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে অনিক (১৭) নামে এক কিশোরের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় একটি নূরানী মাদ্রাসার প্লে-শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে শুক্রবার রাতেই জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে শিশুটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) এ ঘটনায় শিশুটির বাবা শাহজাহান মিয়া বাদী হয়ে জামালপুর সদর থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন। গত শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকালে সদর উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের হায়াতপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত অনিক (১৭) একই গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে।
জামালপুরের অতিরিক্তি পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোঃ ইয়াহিয়া আল মামুন এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলা ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়- শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে শিশুটিকে আখ খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে ডেকে নিয়ে যায় অনিক (১৭)। পরে তাকে একটি প্লোট্রি ফার্মে নিয়ে গিয়ে হাত বেঁধে ধর্ষণ করা হয়। শিশুটি চিৎকার করলে হাত খুলে বাড়িতে নিয়ে আসার পথে শিশুটির মায়ের সাথে অনিকের দেখা হয়। এসময় অনিক শিশুটির মাকে বলে যে- শিশুটি খেলতে গিয়ে ব্যথা পেয়েছে। পরে শিশুটির শারীরিক অবস্থা ও অস্বাভাবিক আচরণ দেখে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। বিষয়টি বুঝতে পেরে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় রাতেই জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর বাবা শাহজাহান মিয়া কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন- আমার শিশু মেয়েটির উপর যে এই বর্বর ও পাশবিক নির্যাতন করেছে, আমি তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।
ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। শিশুটিকে পাশবিক নির্যাতনের সাথে জড়িত অনিককে দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
জামালপুরের অতিরিক্তি পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোঃ ইয়াহিয়া আল মামুন বলেন- শিশু ধর্ষনের ঘটনায় একটি অভিযোগ পেয়েছি। উক্ত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে মামলা নেয়া হয়েছে। ভিকটিমের প্রয়োজনীয় মেডিকেল পরিক্ষা নীরিক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে। অভিযুক্ত কিশোরকে গ্রেপ্তার করতে সাদা পোষাকের পুলিশসহ বেশ কয়েকটি টিম কাজ করছে। আশা করছি খুব দ্রুতই তাকে গ্রেপ্তারে আমরা সক্ষম হবো।
Leave a comment