ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই শতাধিক আসনে জয় পাওয়ার পর ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে জনগণকে নিজেদের পক্ষে আনার কৌশলকেই দলের প্রকৃত ইঞ্জিনিয়ারিং হিসেবে উল্লেখ করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, জনগণকে কনভিন্স করাই ছিল তাদের প্রধান লক্ষ্য এবং এতে তারা সফল হয়েছেন।
শনিবার বিকেলে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত নির্বাচন-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিক খালেদ মুহিউদ্দিনের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। প্রশ্নে জানতে চাওয়া হয়, বিএনপি ২০৯টি আসন এবং শরিক দলগুলো ৩টি আসন পাওয়ায় সরকার গঠনের পথে এগিয়ে যাচ্ছে—এত আসন পেতে কোনো ধরনের ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করতে হয়েছে কি না।
জবাবে তারেক রহমান বলেন, জনগণকে কনভিন্স করাটাই তাদের ইঞ্জিনিয়ারিং। তিনি বলেন, “আমাদের যে ইঞ্জিনিয়ারিংটা ছিল, সেটা হচ্ছে জনগণকে আমাদের পক্ষে নিয়ে আসা। সেটাতে আলহামদুলিল্লাহ আমরা সফল হয়েছি। তিনি আরও বলেন, যেকোনো ভালো কাজ বা লক্ষ্য অর্জন করতে হলে পরিশ্রম করতে হয়।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে তারেক রহমান ইংরেজিতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। পরে তিনি বাংলায় বক্তব্য দেন এবং দেশি-বিদেশি অতিথি ও সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। নির্বাচনের ফলাফল, সরকার গঠনের প্রস্তুতি এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিকল্পনা নিয়েও তিনি সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন।
এ সময় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া অন্যান্য দলগুলোকেও অভিনন্দন জানান বিএনপি চেয়ারম্যান। তিনি জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং ইসলামী আন্দোলনসহ অংশগ্রহণকারী সব রাজনৈতিক দলকে সাধুবাদ জানান এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় তাদের ভূমিকার প্রশংসা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত নেতাদের মধ্যে ছিলেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, নজরুল ইসলাম খান, ড. আব্দুল মঈন খান, সালাহউদ্দিন আহমেদ, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ও ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর বিএনপি সরকার গঠনের প্রস্তুতি শুরু করেছে। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী নতুন সরকার শপথ নেবে।
Leave a comment