মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে চরম উত্তেজনার মধ্যেই ইরানকে সরাসরি সামরিক ও অর্থনৈতিক ধ্বংসের হুমকি দিলেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যদি দ্রুত কোনো চুক্তিতে না পৌঁছায়, তবে দেশটির অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দিয়ে সব তেল সম্পদ মার্কিন নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হবে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি এই বিতর্কিত মন্তব্য করেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলার মধ্য দিয়ে যুদ্ধের সূচনা হয়েছিল। যুদ্ধের প্রথম দিনেই দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ অন্তত ৪০ জন শীর্ষ নেতার নিহতের খবর আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিল। এর জবাবে ইরানও বসে থাকেনি; ইরাক, কুয়েত, বাহরাইন এবং সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে তারা একের পর এক প্রতিশোধমূলক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলের মূল ভূখণ্ডেও ইরানের আক্রমণ অব্যাহত রয়েছে, যার ফলে সংঘাত এখন পুরো মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে।
টেলিফোনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইরানের বর্তমান ভঙ্গুর পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, “তারা যদি দ্রুত কোনো চুক্তিতে না পৌঁছায়, তবে আমি সবকিছু উড়িয়ে দিয়ে তাদের তেল সম্পদ দখলে নেওয়ার কথা ভাবছি।” তিনি আরও যোগ করেন, “খুব শীঘ্রই আপনারা তাদের (ইরানের) পুরো দেশের সেতু আর বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ধসে পড়তে দেখবেন।”
ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের বেশ কিছু উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বর্তমানে আলোচনার টেবিলে বসার চেষ্টা করছেন এবং আগামী সোমবারের মধ্যে একটি বড় ধরনের চুক্তিতে পৌঁছানোর ‘ভালো সম্ভাবনা’ রয়েছে। ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে বিশ্লেষকরা ইরানের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির একটি কৌশল হিসেবে দেখছেন।
তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই আলোচনার দাবিকে পুরোপুরি ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে তেহরান। ইরানের সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ ধরনের কোনো আলোচনার সম্ভাবনা বর্তমানে নেই এবং তারা মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ অব্যাহত রাখবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি তেলের খনি দখলের এই হুমকি বিশ্ব বাজারে তেলের মূল্যে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। একদিকে ট্রাম্পের চুক্তির চাপ, অন্যদিকে ইরানের কঠোর হামলার ঘোষণা—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্য এখন এক অনিয়ন্ত্রিত মহাপ্রলয়ের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে।
Leave a comment