চীনের পূর্বাঞ্চলীয় শ্যানডং প্রদেশের ঝাওইউয়ান শহরের একটি সোনার খনিতে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় সাতজন খনি শ্রমিক নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে কানঝুয়াং সোনার খনির একটি উলম্ব সুড়ঙ্গে শ্রমিক পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত খাঁচা ছিঁড়ে প্রায় ২৪০ মিটার নিচে পড়ে গেলে এ প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় শ্রমিকবাহী খাঁচাটি সুড়ঙ্গ দিয়ে নিচে নামছিল। হঠাৎ করে খাঁচাটিকে ধরে রাখা তার ছিঁড়ে গেলে এটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গভীর খাদে আছড়ে পড়ে। ঘটনাস্থলেই সাত শ্রমিকের মৃত্যু হয় বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, খনিটিতে ‘ডাবল সেফটি সিস্টেম’ বা দ্বৈত নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু ছিল। তবে রহস্যজনকভাবে দুটি তার একসঙ্গে ছিঁড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর হয়নি। কীভাবে একই সময়ে উভয় তার ছিঁড়ে গেল—তা তদন্তের অন্যতম প্রধান বিষয় হয়ে উঠেছে।
দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে জরুরি ব্যবস্থাপনা বিভাগ ও পাবলিক সিকিউরিটি ব্যুরো যৌথভাবে তদন্ত শুরু করেছে। প্রযুক্তিগত ত্রুটি, রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি কিংবা অবহেলা—সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
দুর্ঘটনাটি নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, খনি কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকারি দপ্তরে ঘটনাটি রিপোর্ট করেনি। শনিবারের এই দুর্ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসে সোমবার রাতে, একটি গোপন সূত্রের মাধ্যমে।
ঝাওইউয়ান শহরের জরুরি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কোম্পানিটি সময়মতো দুর্ঘটনার তথ্য জানায়নি, যা উদ্ধার কার্যক্রমে বিলম্ব ঘটাতে পারে। তথ্য গোপনের অভিযোগকে গুরুতর হিসেবে বিবেচনা করছে প্রশাসন।
এ ঘটনায় খনি ব্যবস্থাপক ও প্রধান প্রকৌশলীসহ মোট ১১ জন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ। তদন্তে তাদের ভূমিকা ও সম্ভাব্য দায় নির্ধারণ করা হবে।
দুর্ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট খনি কোম্পানি ‘ঝাওজিন মাইনিং ইন্ডাস্ট্রি’-এর শেয়ারের দামে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের দায়ে গত বছরও এই খনিকে অন্তত দুইবার জরিমানা করা হয়েছিল। ফলে সাম্প্রতিক দুর্ঘটনা শিল্প নিরাপত্তা মানদণ্ড বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
একই দিনে চীনের শানসি প্রদেশে একটি বায়োটেক কারখানায় পৃথক এক বিস্ফোরণে আরও আটজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। একই দিনে দুটি বড় শিল্প দুর্ঘটনা ঘটায় দেশটির শিল্প নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সমালোচনা জোরদার হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত শিল্পায়নের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিরাপত্তা কাঠামো শক্তিশালী না হলে এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি থেকেই যায়। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো শ্রমিক সুরক্ষা ও নিয়ন্ত্রক তদারকির কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।
Leave a comment