চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাস সংলগ্ন রেলস্টেশন এলাকায় নগদ ১ হাজার টাকার প্রলোভন দেখিয়ে দুই কোমলমতি পথশিশুকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণচেষ্টার তীব্র অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন বহিরাগতের বিরুদ্ধে। গত রোববার ভোররাত সাড়ে ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেলস্টেশন চত্বরে এই নির্মম ঘটনাটি ঘটে। পরবর্তীতে ঘটনার সাথে জড়িত মাকসুদ আলী নামে এক অভিযুক্তকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সচেতন শিক্ষার্থীরা।
আটককৃত মাকসুদ আলীর নিকট থেকে উদ্ধার করা জাতীয় পরিচয়পত্র সূত্রে জানা গেছে, তার পিতার নাম আব্দুল জলিল ও মাতার নাম দিলারা বেগম। তার স্থায়ী বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ উপজেলার তেলিয়া গ্রামে।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মিনহাজ আলম সৌরভ জানান, রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের খোলা রেলস্টেশনে আশ্রয় নিয়েছিল দুই অসহায় মেয়ে পথশিশু। তাদের মধ্যে একজনের বয়স আনুমানিক ১৩ থেকে ১৪ বছর এবং অপরজনের বয়স ১০ বছরের নিচে। রাত সাড়ে ৩টার দিকে ৪-৫ জন বহিরাগত লোক তাদের কাছে গিয়ে এক হাজার টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করে। শিশু দুটি তাদের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে দুর্বৃত্তরা জোরপূর্বক তাদের মুখ চেপে ধরে হাত-পা টেনেহিঁচড়ে নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালায়।
ভুক্তভোগী শিশুদের আর্তচিৎকারে পাশ দিয়ে যাওয়া এক স্থানীয় পথচারী এগিয়ে এলে পরিস্থিতি বুঝে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। উদ্ধারকারী ব্যক্তি শিশুদের প্রাথমিক নিরাপত্তা ও খাদ্যের ব্যবস্থা করেন। পরদিন সকালে শিশুদের নিয়ে স্টেশনে এলে অভিযুক্তদের একজনকে চিনতে পেরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে আটক করা হয়। খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্য ও শিক্ষার্থীরা তাকে আটক করে হাটহাজারী থানা পুলিশের হাতে তুলে দেন।
ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক ফজলে রাব্বি তৌহিদ বলেন, ক্যাম্পাস সীমানায় শিক্ষার্থী কিংবা বহিরাগত সকলের নিরাপত্তা বিধানের মূল দায়িত্ব প্রক্টরিয়াল বডি ও নিরাপত্তা বিভাগের। ছুটি চলাকালীন অজুহাতে নিরাপত্তা শিথিল করার কোনো সুযোগ নেই। অন্যদিকে চবি প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. কামরুল হোসেন জানান, ট্রেন বন্ধ থাকার সুযোগে রাতে ভাসমান লোকজনের আনাগোনা ঠেকাতে স্টেশন এলাকায় নিরাপত্তা টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে হাটহাজারী থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) মো. জাহিদুর রহমান জানান, সুনির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আটক আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
Leave a comment