কৃষ্ণসাগরে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বসফরাস প্রণালির অদূরে তুরস্কের একটি বিশাল তেলবাহী ট্যাংকারে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। তুর্কি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রণালি থেকে মাত্র ১৪ মাইল দূরে এই হামলা চালানো হয়। সিয়েরা লিওনের পতাকাবাহী এই জাহাজটি রাশিয়ার নভোরোসিস্ক বন্দর থেকে প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল।
তুরস্কের পরিবহন ও অবকাঠামো মন্ত্রী আব্দুলকাদির উরালওগলু জানিয়েছেন, হামলার সময় জাহাজটিতে ২৭ জন ক্রু সদস্য ছিলেন। ড্রোনটি মূলত জাহাজটির ইঞ্জিন রুম লক্ষ্য করে আঘাত হানার চেষ্টা করেছিল। বিস্ফোরণে জাহাজটির ‘ব্রিজ’ বা নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও সৌভাগ্যবশত কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। ঘটনার পরপরই তুর্কি নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড সংশ্লিষ্ট এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
এই হামলা এমন এক সময়ে ঘটল যখন ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে যুদ্ধের তীব্রতা নতুন মাত্রা পেয়েছে। একদিকে কৃষ্ণসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলা বাড়ছে, অন্যদিকে কূটনৈতিক টেবিলে চলছে নানা সমীকরণ। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সম্প্রতি জানিয়েছেন যে, একটি সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র কিয়েভকে উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দিতে প্রস্তুত। তবে এই চুক্তিতে ডনবাস অঞ্চল থেকে ইউক্রেনীয় সেনা সরিয়ে নেওয়ার মতো কঠিন শর্ত যুক্ত থাকায় বিষয়টি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত জটিল হয়ে পড়েছে।
যুদ্ধক্ষেত্রেও পাল্টাপাল্টি রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। রুশ বাহিনীর হামলায় ইউক্রেনের খারকিভে দুইজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এর পাল্টা জবাবে ইউক্রেন রাশিয়ার বেলগোরোদ অঞ্চলে ড্রোন হামলা চালালে সেখানেও দুইজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে, এই যুদ্ধের ভয়াবহতা ছড়িয়ে পড়ছে দূরবর্তী দেশগুলোতেও। জিম্বাবুয়ে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, রাশিয়ার পক্ষে লড়াই করতে গিয়ে তাদের অন্তত ১৫ জন নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। কৃষ্ণসাগরে তুরস্কের জাহাজে এই ড্রোন হামলা আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
Leave a comment