রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে আয়োজিত এক ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে বিদেশি এক কূটনীতিককে জড়িয়ে ধরা ও খুনসুটি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বর্তমান সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (২১ মার্চ) দুপুরে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ভারত, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, জাপান ও পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনাররা উপস্থিত ছিলেন। ভিডিওতে দেখা যায়, ডা. শফিকুর রহমান অত্যন্ত প্রাণবন্ত ভঙ্গিতে অতিথিদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছেন। একপর্যায়ে তিনি খাবার টেবিলে বসা এক বিদেশি কূটনীতিককে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরেন এবং হাস্যোজ্জ্বলভাবে খুনসুটিতে মেতে ওঠেন। শুধু জড়িয়ে ধরাই নয়, কোলাকুলি ও সৌহার্দ্য বিনিময়ের বিভিন্ন দৃশ্যও ভিডিওতে ধরা পড়ে।
ভিডিওটি প্রকাশ হওয়ার পরপরই ফেসবুক ও এক্স-এ (সাবেক টুইটার) ট্রল ও সমালোচনার ঝড় ওঠে। সমালোচকদের মতে, একজন জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদের পক্ষ থেকে বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে এমন আচরণ কূটনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী ও ‘দৃষ্টিকটু’। তবে অন্য একটি পক্ষ মনে করছেন, এটি অত্যন্ত স্বাভাবিক এবং আন্তরিকতার বহিঃপ্রকাশ, যা তথাকথিত আনুষ্ঠানিকতার দেওয়াল ভেঙে দুই দেশের সম্পর্কের গভীরতাকেই ফুটিয়ে তোলে।
বিষয়টি নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হলে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম জানান, ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে গিয়েই এমন হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হয়েছিল।
তিনি বলেন, “আমাদের আমির কূটনীতিকদের সঙ্গে স্রেফ রসিকতা ও হাসিঠাট্টা করে আনন্দ দিতে চেয়েছিলেন। সংশ্লিষ্ট কূটনীতিকরাও বিষয়টি খুব উপভোগ করেছেন।” তবে জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হওয়ার প্রেক্ষিতে তিনি আরও যোগ করেন যে, কোনো কিছু বেমানান মনে হলে ভবিষ্যতে এ জাতীয় বিষয়ে তারা আরও সতর্ক থাকবেন।
Leave a comment