কুমিল্লার পদুয়া বাজার রেলক্রসিং এলাকায় এক মর্মান্তিক ট্রেন দুর্ঘটনায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। শনিবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের এই ক্রসিংয়ে মামুন পরিবহন নামের একটি যাত্রীবাহী বাসকে একটি মেইল ট্রেন ধাক্কা দিলে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী মেইল ট্রেনটি পদুয়া বাজার রেলক্রসিং অতিক্রম করার সময় লাইনে উঠে পড়া বাসটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। ধাক্কার তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, বাসটিকে লাইনের ওপর দিয়ে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে টেনে নিয়ে যায় ট্রেনটি। দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া বাসের ভেতর থেকে প্রথমে সাতটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১২ জনে দাঁড়ায়।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. অজয় ভৌমিক রোববার সকালে ১২ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিহতদের মধ্যে সাতজন পুরুষ, তিনজন নারী এবং দুইজন শিশু রয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের বিস্তারিত পরিচয় পাওয়া যায়নি।
ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার পর থেকে চট্টগ্রামের সাথে ঢাকা ও সিলেটসহ সারাদেশের রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগের ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, লাইনচ্যুত বগি ও দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি সরাতে আখাউড়া থেকে একটি রিলিফ ট্রেন (উদ্ধারকারী ট্রেন) তলব করা হয়েছে। উদ্ধারকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই পথে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হওয়া সম্ভব নয়।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এই দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। সিগন্যাল অমান্য নাকি গেটম্যানের অবহেলায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গভীর রাতে রেলক্রসিংয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সক্রিয় ছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্ত ও শনাক্তকরণের জন্য বর্তমানে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে রাখা
Leave a comment