গুজরাটের রাজকোটে এক পৈশাচিক ঘটনার খবর সামনে এসেছে। নিজের ১৯ বছর বয়সী কন্যাকে টানা ৪ বছর এবং ১৭ বছর বয়সী ভাইঝিকে টানা ৭ বছর ধরে ধর্ষণের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে যখন অভিযুক্তের মেয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায় এবং নিখোঁজ ডায়েরির ভিত্তিতে পুলিশ তাকে খুঁজে বের করে।
অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজেই প্রথমে তার মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। তবে পুলিশ যখন মেয়েটির সন্ধান পায়, তখন সে জানায় যে তার বাবার অত্যাচার থেকে বাঁচতেই সে বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছিল।
তদন্তকারীদের কাছে নির্যাতিতা জানান, “১৫ বছর বয়স থেকেই বাবা আমার ওপর পাশবিক নির্যাতন চালিয়ে আসছে।” তিনি আরও জানান, মেয়েটির আর্তনাদ যেন বাইরে না যায়, সেজন্য অভিযুক্ত ব্যক্তি উচ্চশব্দে পর্নোগ্রাফিক ভিডিও চালিয়ে রাখতেন।
রাজকোট গ্রামীণ এসপি বিজয় সিং গুর্জর জানিয়েছেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়া সত্ত্বেও এই ঘৃণ্য অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছিলেন এবং জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন। নির্যাতিতার ঘর থেকে পুলিশ জেল, মোবাইল ফোন এবং প্রোটেকশন কিট আলামত হিসেবে উদ্ধার করেছে।
তদন্ত চলাকালীন দ্বিতীয় আরেকজন ভুক্তভোগীর সন্ধান পাওয়া যায়। জানা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি তার ১৭ বছর বয়সী ভাইঝিকে গত ৭ বছর ধরে যৌন নিপীড়ন করে আসছিলেন। বর্তমানে ওই কিশোরীকে কাউন্সিলিং করা হচ্ছে এবং এই বিষয়ে খুব শীঘ্রই একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অভিযুক্তের স্ত্রী বর্তমানে চতুর্থ পর্যায়ের ক্যান্সারের সাথে লড়াই করছেন এবং তিনি সম্পূর্ণ শয্যাশায়ী। তার চিকিৎসার যেন কোনো ব্যাঘাত না ঘটে, সে লক্ষ্যে পুলিশ প্রশাসন স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সাথে সমন্বয় করছে।
Leave a comment