দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলে পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গেছে যাত্রীবাহী বাস। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দুপুরে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ এবং রাঙামাটির সাপছড়ি এলাকায় এই দুর্ঘটনা দুটি ঘটে। দুই বাসে প্রায় ৮০ জন যাত্রী থাকলেও বড় ধরনের কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি, তবে বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার সুন্দরদিঘী ইউনিয়নের লক্ষ্মীনারায়ণী-ফুলতলা স্লুইচগেট এলাকায় নীলফামারীর ডোমার থেকে দিনাজপুরগামী ‘শাহী পরিবহন’ নামের একটি গেটলক বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের একটি গাছে ধাক্কা দেয়। এতে বাসটি সড়কে উল্টে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার সময় বাসটিতে অন্তত ৪০ জন যাত্রী ছিল।
দেবীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন প্রধান রাকিব জানান, সংবাদ পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ফায়ার সার্ভিস পৌঁছানোর আগেই অধিকাংশ যাত্রী প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে বিভিন্ন স্থানে চলে যান। দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক নিশ্চিত করেছেন যে, বাসটি সড়ক থেকে ছিটকে পড়লেও বড় ধরনের কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
এদিকে একই দিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়কের সাপছড়ি এলাকায় প্রায় ৪০ জন যাত্রী নিয়ে আরেকটি বাস উল্টে যায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাসটি রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলা থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে আসছিল। বাসের যাত্রীরা সবাই ঈদের ছুটি শেষে চট্টগ্রামে নিজেদের কর্মস্থলে (গার্মেন্টস) ফিরছিলেন।
সাপছড়ি এলাকার একটি ঢালু সড়কে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গেলে ভেতরে থাকা অনেক যাত্রী আহত হন। আহতদের মধ্যে ১২ জনকে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার কাজে অংশ নেওয়ায় বড় বিপদ থেকে রক্ষা পান যাত্রীরা।
একই দিনে দেশের দুই প্রান্তে একই ধরনের দুর্ঘটনা সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরার পথে অতিরিক্ত যাত্রী ও চালকদের অসতর্কতাকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা।
Leave a comment