ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে প্রথমবারের মতো অত্যাধুনিক সেজিল‑২ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে বলে ইরান দাবি করেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি জানিয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত শুরুর পর এই প্রথমবারের মতো সেজিল-২ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।
ইরানের তৈরি এই ক্ষেপণাস্ত্রটি মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হিসেবে পরিচিত। এটি ‘সাজিল’, ‘আশৌরা’ বা ‘আশুরা’ নামেও পরিচিত।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, সেজিল-২ ক্ষেপণাস্ত্রের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এতে কঠিন জ্বালানি ব্যবহার করা হয়। এর ফলে তরল জ্বালানি চালিত ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় এটি দ্রুত প্রস্তুত করা এবং উৎক্ষেপণ করা সম্ভব। ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার দূরত্ব পর্যন্ত আঘাত হানতে পারে এবং প্রায় ৭০০ কেজি ওজনের যুদ্ধাস্ত্র বহন করতে সক্ষম।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো উড্ডয়নকালে এর গতিপথ পরিবর্তনের ক্ষমতা। অনেক উঁচু দিয়ে উড়ার সময়ও এটি দিক পরিবর্তন করতে পারে। এ কারণেই একে অনেক সময় ‘ড্যান্সিং মিসাইল’ বা ‘নাচুনে ক্ষেপণাস্ত্র’ বলা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান Center for Strategic and International Studies (CSIS)-এর তথ্য অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্রটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১৮ মিটার এবং ওজন প্রায় ২৩ হাজার ৬০০ কেজি।
১৯৯০-এর দশকের শুরুতে সেজিল ক্ষেপণাস্ত্রের নকশা উন্নয়নের কাজ শুরু হয়। ২০০৮ সালে এর প্রথম পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করা হয় এবং পরবর্তী বছরগুলোতে আরও কয়েক দফা পরীক্ষা চালানো হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, চলমান সংঘাতে এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক উত্তেজনাকে নতুন মাত্রা দিতে পারে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিও আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
Leave a comment