ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত ইরানের দুই শীর্ষ কর্মকর্তা আলী লারিজানি এবং গোলামরেজা সোলাইমানির রাষ্ট্রীয় জানাজা আজ বুধবার (১৮ মার্চ) রাজধানী তেহরানে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ ঘটনায় দেশজুড়ে শোকের আবহের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, নিহত দুই নেতাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায় জানানো হবে। তারা দেশের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়।
গত সোমবার ও মঙ্গলবার তেহরানের অভ্যন্তরে পৃথক বিমান হামলা চালিয়ে এই দুই নেতার মৃত্যু নিশ্চিত করে ইসরায়েল। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ বলেছেন, নির্ভুল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এ অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
আলী লারিজানি ইরানের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে পরমাণু আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
অন্যদিকে, গোলামরেজা সোলাইমানি গত ছয় বছর ধরে আইআরজিসির অধীনস্থ আধাসামরিক বাহিনী বাসিজের প্রধান হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। ভিন্নমত দমনের অভিযোগে তার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ছিল।
এই হত্যাকাণ্ডের পর পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে। ইরানের সেনাপ্রধান আমির হাতামি ‘কঠোর প্রতিশোধ’-এর ঘোষণা দেওয়ার পরপরই ইসরায়েলের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা জোরদার করেছে আইআরজিসি।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের বাণিজ্যিক কেন্দ্র তেল আবিবে আঘাত হেনেছে। এতে অন্তত দুইজন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। দেশজুড়ে সাইরেন বাজছে এবং বিস্ফোরণের আতঙ্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, পাল্টাপাল্টি হামলার এই ধারা অব্যাহত থাকলে তা বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
Leave a comment