যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে ইরানের চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাত ২৭তম দিনে পদার্পণ করেছে। যুদ্ধের শুরুতেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে সপরিবারে হত্যা এবং পরবর্তীতে একের পর এক শীর্ষ কমান্ডার ও রাজনৈতিক নেতাদের হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপটে এবার সরাসরি ইসরায়েলের হৃদপিণ্ডে আঘাত হানার দাবি করেছে তেহরান। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ভোরে ইসরায়েলের সামরিক সদরদপ্তর এবং অত্যন্ত সুরক্ষিত একটি পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে ইরানের অভিজাত বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
ইরানি সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইআরজিসি নিশ্চিত করেছে যে তাদের লক্ষ্যবস্তু ছিল ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) ‘মিলিটারি কন্ট্রোল সেন্টার অব কমান্ড’ দপ্তর, যা দেশটির রাজধানী জেরুজালেমে অবস্থিত। একইসাথে মৃত সাগর বা ডেড সি-এর দক্ষিণে অবস্থিত ইসরায়েলের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রেও সফলভাবে এই হামলা পরিচালনা করা হয়েছে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তেহরানের ইসলামী শাসনতন্ত্রের অবসান ঘটাতে ওয়াশিংটন ও তেল আবিব যে যৌথ অভিযান পরিচালনা করছে, এই হামলাকে তার কঠোর জবাব হিসেবে দেখছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।
আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এবং তাদের নেতৃত্বের ওপর চালানো অন্যায্য হামলার প্রতিশোধ নিতেই এই কৌশলগত স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলোতেও ইরানের পক্ষ থেকে ধারাবাহিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রয়েছে।
এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) বা দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে এই হামলার ক্ষয়ক্ষতি বা দাবির সত্যতা নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে জেরুজালেমসহ গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো সংবেদনশীল স্থাপনায় হামলার ঘটনা পুরো অঞ্চলের পরিবেশ ও নিরাপত্তার জন্য এক ভয়াবহ হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। যদি আইআরজিসি-র এই দাবি সত্য হয়, তবে এটি কয়েক দশকের মধ্যে ইসরায়েলের ওপর ইরানের সবচেয়ে বড় ও সরাসরি সামরিক আঘাত হিসেবে গণ্য হবে। বিশ্ব সম্প্রদায় এই সংঘাত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
Leave a comment