লতিফুল ইসলাম | রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) নামমাত্র মূল্যে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘকে (ইসকন) জমি বরাদ্দ দিয়েছে—এমন অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রায় ১২০ কোটি টাকা মূল্যের জমি মাত্র দুই লাখ টাকায় বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, উত্তরা ও পূর্বাচল এলাকায় পৃথক দুটি প্লট মিলিয়ে এই জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে উত্তরায় প্রায় ৫৩ কোটি টাকা মূল্যের ৩৫ কাঠা জমি এক লাখ টাকায় এবং পূর্বাচলে প্রায় ৬৭ কোটি টাকা মূল্যের ৮৩ দশমিক ৩ কাঠা জমি একই মূল্যে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
এশিয়া পোস্টের অনুসন্ধানে জানা যায়, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য গাজীপুরের কয়েকটি গ্রামের জমি অধিগ্রহণ করে রাজউক। এতে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের বসতভিটা, মন্দির ও অন্যান্য সম্পত্তি অধিগ্রহণ করা হয়। পরবর্তীতে তাদের পুনর্বাসনের অংশ হিসেবে প্লট বরাদ্দ দেওয়া হলেও উপাসনালয় ও শ্মশানের জন্য নির্ধারিত জমি তারা পাননি বলে অভিযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পূর্বাচল প্রকল্পের ২৬ নম্বর সেক্টরের একটি প্লট উপাসনালয় ও শ্মশানের জন্য নির্ধারণ করা হলেও পরে সেটি ইসকনের নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়। স্থানীয় মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে ওই জমি নামমাত্র মূল্যে বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করা হলেও তা কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে মন্দির কমিটির বর্তমান সভাপতি শুভ সরকার দাবি করেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের আবেদন উপেক্ষা করে ইসকনের নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
নথিপত্র অনুযায়ী, ২০২৩ সালে প্রাতিষ্ঠানিক প্লট বরাদ্দ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে রাজউকের সভায় সংশ্লিষ্ট প্লটটি ইসকনের অনুকূলে বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এদিকে পরিস্থিতি জটিল হলে উভয় পক্ষের অনাপত্তি চেয়ে রাজউক চিঠি দেয়। তবে প্লট বিভাজন নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয় এবং বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়।
এর আগে ২০১৩ সালে উত্তরার একটি আবাসিক এলাকায়ও ইসকনকে প্রায় সাড়ে ৩৫ কাঠা জমি প্রতীকী মূল্যে বরাদ্দ দেওয়া হয়। নগর পরিকল্পনাবিদদের কেউ কেউ একাধিকবার একই প্রতিষ্ঠানের নামে জমি বরাদ্দকে নিয়মবহির্ভূত বলে মন্তব্য করেছেন।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সভাপতি অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, একটি প্রতিষ্ঠানের নামে একাধিকবার জমি বরাদ্দ দেওয়ার ক্ষেত্রে নীতিমালার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
অন্যদিকে ইসকনের পক্ষ থেকে অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। সংগঠনটির সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন, তারা নিয়ম মেনেই জমি বরাদ্দ পেয়েছেন এবং কারও অধিকার ক্ষুণ্ণ করা হয়নি।
এ বিষয়ে রাজউক চেয়ারম্যান মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে পরে মন্তব্য করা যাবে।”
Leave a comment