ইরানকে ঘিরে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীরা এক অনিশ্চিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে পড়েছেন। সম্ভাব্য কূটনৈতিক সমঝোতা কিংবা বড় ধরনের সামরিক সংঘাত—দুই সম্ভাবনাকেই সামনে রেখে বাজারে অবস্থান নিচ্ছেন তারা। বিশ্লেষকদের ভাষায়, বর্তমান পরিস্থিতিতে “পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছে না”, ফলে আর্থিক বাজারে চরম দোলাচল বিরাজ করছে।
বিশ্ববাজারে এই অনিশ্চয়তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে তেল, মুদ্রা ও শেয়ারবাজারে। ইরানকে ঘিরে সম্ভাব্য সামরিক উত্তেজনা বাড়লে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় তেলের দাম দ্রুত বাড়তে পারে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে তেলের দাম ১১০ ডলারের আশপাশে ওঠানামা করছে, যা বাজারে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
অন্যদিকে, যদি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো সমঝোতা বা যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়, তাহলে শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরতে পারে। এতে তেলের দাম কমে আসার পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনীতিতে স্বস্তি ফিরতে পারে। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, এমন ইতিবাচক পরিস্থিতি এখনও অনিশ্চিত এবং যে কোনো সময় পরিবর্তিত হতে পারে।
এদিকে চলমান সংকট দীর্ঘায়িত হলে তা ১৯৭৩ বা ১৯৭৯ সালের তেল সংকটের চেয়েও বড় অর্থনৈতিক ধাক্কা তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা। এতে বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়া এবং সম্ভাব্য মন্দার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
বিনিয়োগকারীরা তাই এখন একদিকে সম্ভাব্য কূটনৈতিক সমাধানের দিকে নজর রাখছেন, অন্যদিকে বড় ধরনের সামরিক উত্তেজনার ঝুঁকিও বিবেচনায় নিচ্ছেন। এই দ্বিমুখী পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক আর্থিক বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
Leave a comment