ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক সংঘাতে অন্তত ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন বলে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে। তবে নিহতদের নাম-পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
এক বিবৃতিতে সেন্টকম জানায়, ইরানে সামরিক অভিযান শুরুর সময় নিখোঁজ হওয়া দুই সেনার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। যুদ্ধ চলমান থাকায় হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। সামরিক নীতিমালা অনুযায়ী, নিহত সেনাদের পরিবারকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করার পর ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত তাদের নাম প্রকাশ করা হবে না বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে সংঘাতের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে এনেছে সেন্টকম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে তারা দাবি করেছে, ওমান উপসাগরে অবস্থানরত সব ইরানি জাহাজ ধ্বংস করা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, দুই দিন আগে ওমান উপসাগরে ইরানের ১১টি জাহাজ ছিল, বর্তমানে সে সংখ্যা শূন্য। মার্কিন বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক অভিযানে এসব জাহাজ সম্পূর্ণভাবে নিষ্ক্রিয় বা ধ্বংস করা হয়েছে। এই দাবির কোনো আন্তর্জাতিক যাচাই এখনো পাওয়া যায়নি।
সেন্টকমের বক্তব্যে বলা হয়েছে, কয়েক দশক ধরে ইরান, ওমান উপসাগরে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে হস্তক্ষেপ ও হামলা চালিয়ে আসছে। মার্কিন পক্ষের দাবি—এই ধরনের কার্যক্রম আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য হুমকি ছিল।
তাদের ভাষায়, “সে দিন এখন শেষ।” অর্থাৎ, ইরানের সামুদ্রিক প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ ভাঙার উদ্দেশ্যেই এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সামরিক সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওমান উপসাগর ও পারস্য উপসাগর আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ রুট। সেখানে বড় ধরনের সামরিক সংঘর্ষ বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।
এখন পর্যন্ত ইরানের পক্ষ থেকে সেন্টকমের দাবির আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল হওয়ায় আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
Leave a comment