ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বিধ্বংসী যুদ্ধ অবসানে এক চূড়ান্ত কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। তুরস্ক, মিশর ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীরা আগামীকালের (বৃহস্পতিবার) মধ্যেই উভয় পক্ষের শীর্ষ কর্মকর্তাদের একটি আলোচনার টেবিলে বসানোর জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই উদ্যোগকে সমর্থন জানালেও উভয় পক্ষের মৌলিক দাবির মধ্যে বিশাল ফারাক বিদ্যমান।
জানা গেছে, যুদ্ধের ইতি টানতে যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই ইরানের কাছে ১৫ দফার একটি বিস্তারিত পরিকল্পনা পাঠিয়েছে। এই প্রস্তাবের মূল অংশ ট্রাম্প প্রশাসনের পূর্ববর্তী কঠোর দাবিগুলোর ওপর ভিত্তি করে তৈরি। তবে তেহরান এই প্রস্তাবকে শুরুতেই বিদ্রূপ করেছে। ইরানের এক সামরিক মুখপাত্র ওয়াশিংটনকে কটাক্ষ করে বলেছেন, “কৌশলগত পরাজয় আড়াল করতে যুক্তরাষ্ট্র এখন নিজেদের সঙ্গেই আলোচনা করছে।”
এদিকে, ট্রাম্পের এই দ্রুত সমঝোতার আগ্রহে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে উপসাগরীয় আরব মিত্ররা। কূটনৈতিক সূত্রমতে, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতারা ইরানকে সামরিকভাবে যথেষ্ট দুর্বল না করা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে যাওয়ার জন্য ট্রাম্পের ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করছেন। তাদের আশঙ্কা, তড়িঘড়ি করা কোনো চুক্তি তেহরানকে আঞ্চলিকভাবে আরও শক্তিশালী করে তুলতে পারে।
সংঘাতের ময়দানে উত্তেজনা এখনো তুঙ্গে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন জানিয়েছে, তারা এলিট ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের প্রায় ৩ হাজার সেন সদস্যকে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে। যদিও ইরানের মূল ভূখণ্ডে সরাসরি সেনা পাঠানোর বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
অন্যদিকে, সংঘাতের আঁচ লেগেছে প্রতিবেশী দেশগুলোতেও। কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ বেশ কয়েকটি উপসাগরীয় স্থাপনা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে বলে জানা গেছে।এই কূটনৈতিক ডামাডোলের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় ধরনের পতন লক্ষ্য করা গেছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৫ ডলারের নিচে নেমে এসেছে।
রাজনৈতিকভাবেও ট্রাম্প নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন; ইরানে তার সামরিক অভিযান সীমিত করার তৃতীয় প্রচেষ্টাও মার্কিন সিনেটে নাকচ হয়ে গেছে, যা যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে তাকে আরও আইনি শক্তি জোগাচ্ছে।
Leave a comment