মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যেই ইরানের বিভিন্ন স্থানে সামরিক হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে অংশ নেয়।
শনিবার রাতে হামলার ঘটনা ঘটে এবং রোববার সকালে রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখতে পান বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, তেহরানের ইউনিভার্সিটি স্ট্রিট ও জোমহৌরি এলাকায় একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বা হতাহতের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
একজন মার্কিন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, ইসরাইলের সঙ্গে সমন্বয় করে নির্দিষ্ট সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ বলেছেন, এই হামলার মূল উদ্দেশ্য তেল আবিবের ওপর সম্ভাব্য হুমকি দূর করা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর সাম্প্রতিক তৎপরতা ইসরাইলের নিরাপত্তার জন্য সরাসরি ঝুঁকি তৈরি করেছিল।
তিনি আরও জানান, সম্ভাব্য পাল্টা আক্রমণের আশঙ্কায় দেশজুড়ে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সামরিক বাহিনীর নির্দেশনায় প্রয়োজন ছাড়া সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনসমাবেশ এবং অপ্রয়োজনীয় কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে।
ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটলো, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরমাণু কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে আলোচনা চলছিল বলে জানা যায়। এই প্রেক্ষাপটে সামরিক পদক্ষেপ আঞ্চলিক কূটনীতিতে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
Leave a comment