মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোতে বড় ধরনের রদবদল করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) ইরান সরকার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ বাঘের জোলঘাদরকে দেশটির ‘সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল’-এর নতুন সচিব হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। তিনি গত সপ্তাহে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত আলী লারিজনির স্থলাভিষিক্ত হলেন।
মোহাম্মদ বাঘের জোলঘাদর ইরান রেভল্যুশনারি গার্ডসের (আইআরজিসি) একজন অভিজ্ঞ সামরিক কর্মকর্তা। এর আগে তিনি ইরানের ‘এক্সপিডিশিয়েন্সি ডিসার্নমেন্ট কাউন্সিল’-এর সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি ইরানের বিচার বিভাগ এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা বিষয়ক উপমন্ত্রী হিসেবেও কাজ করেছেন। তার এই নিয়োগকে যুদ্ধের এই সংকটকালীন সময়ে ইরানের নিরাপত্তা কৌশল সুসংহত করার একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
একই দিনে লেবানন সরকার তেহরানের সাথে তাদের কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতির ইঙ্গিত দিয়ে দেশটিতে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ রেজা শেয়বানিকে বহিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছে। লেবাননের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাকে ‘পার্সোনা নন গ্রাতা’ (অবাঞ্ছিত ব্যক্তি) ঘোষণা করে আগামী ২৯ মার্চের (রবিবার) মধ্যে দেশত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে।
লেবানন সরকারের অভিযোগ, ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সাথে যোগসাজশ করে দেশটিকে ইসরায়েলের সাথে একটি ভয়াবহ ও ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম এই পরিস্থিতির তীব্র সমালোচনা করে জানিয়েছেন, সরকারের অনুমতি ছাড়াই বিদেশি শক্তির প্রভাবে দেশটিতে যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এদিকে ইসরায়েলও দাবি করেছে যে, তাদের সাম্প্রতিক বিমান হামলাগুলোর লক্ষ্যবস্তু ছিল লেবাননে অবস্থানরত আইআরজিসি কর্মকর্তারা।
এই বহিষ্কারাদেশের প্রতিক্রিয়ায় ইরানও বৈরুত থেকে তাদের রাষ্ট্রদূতকে আলোচনার জন্য তলব করেছে। দুই দেশের এই কূটনৈতিক টানাপোড়েন মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
Leave a comment