আগামী ১৪ মার্চ সারা দেশে ইমাম-মুয়াজ্জিন-পুরোহিতদের জন্য সরকার প্রদত্ত মাসিক ভাতা কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান । গতকাল রবিবার সচিবালয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ে ধর্মমন্ত্রীর অফিস কক্ষে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন-বিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, ‘আপনারা অবগত আছেন বিএনপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে নির্বাচনী অঙ্গীকার হিসেবে অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি ছিল ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি সুদৃঢ় করতে সব ধর্মের উপাসনালয়ের ধর্মীয় নেতার জন্য সম্মানী ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালু করা।’
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর থেকেই আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে যে সব প্রতিশ্রুতির কথা বলা ছিল একে একে সে সব প্রতিশ্রুতির ফ্ল্যাগশিপ যেসব প্রতিশ্রুতিগুলো আছে সেগুলো বাস্তবায়নের কার্যকরী পদক্ষেপ ইতিমধ্যে নেওয়া হয়েছে। আপনারা সেটা দেখেছেন আমাদের ফ্যামিলি কার্ড, আমাদের কৃষক কার্ড নিয়ে অলরেডি আলোচনা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ঈদুল ফিতরের পূর্বেই মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম এবং অন্যান্য উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তির জন্য মাসিক সম্মানী প্রদানের বিষয়ে সরকার পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।’
ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, ‘সরকার প্রথমপর্যায়ে আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগেই একটি পাইলট স্কিমের আওতায় মাসিক ভাতা চালু করার লক্ষ্যে প্রাথমিকপর্যায়ে প্রতিটি ইউনিয়ন এবং প্রতিটি পৌরসভা হতে একটি করে মোট ৪৯০৮টি মসজিদ এবং অন্যান্য উপাসনালয়ের ক্ষেত্রে প্রতিটি উপজেলা হতে দুটি করে মোট ৯৯০টি মন্দির। সারা দেশে ৭২টি উপজেলায় বৌদ্ধবিহার অবস্থিত হওয়ায় প্রতি উপজেলা হতে দুটি করে মোট ১৪৪টি বৌদ্ধ বিহার ও ১৯৮টি উপজেলায় গির্জা অবস্থিত হওয়ায় প্রতিটি উপজেলা হতে দুটি করে মোট ৩৯৬টি গির্জা নির্বাচন করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘প্রাথমিকপর্যায়ে পাইলট স্কিমের আওতায় মাসিক ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিটি মসজিদের ইমাম সাহেব পাবেন ৫ হাজার টাকা করে সম্মানী। মুয়াজ্জিন সাহেব পাবেন ৩ হাজার টাকা করে সম্মানী। খাদেম সাহেব পাবেন ২ হাজার টাকা করে সম্মানী। তার মানে প্রতিটি মসজিদে মাসিক ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। পুরোহিত মন্দিরের পুরোহিত পাবেন ৫ হাজার টাকা। সেবাইত পাবেন ৩ হাজার টাকা। বৌদ্ধ বিহারের বিহার অধ্যক্ষ পাবেন ৫ হাজার এবং বিহার উপাধ্যক্ষ পাবেন ৩ হাজার। গির্জার যাজক পাবেন ৫ হাজার এবং সহকারী যাজক পাবেন ৩ হাজার টাকা। মানে প্রতিটি গির্জা, মন্দির এবং বৌদ্ধ মন্দিরে দেওয়া হচ্ছে ৮ হাজার টাকা করে এবং প্রতি মসজিদে দেওয়া হচ্ছে ১ হাজার টাকা করে।’
তিনি আরও জানান, প্রতি বছর ধর্মীয় উৎসবে মসজিদে কর্মরতদের ঈদুল ফিতর ও আজহার ক্ষেত্রে ১ হাজার টাকা করে বছরে দুইবার এবং দুর্গাপূজা/বৌদ্ধ পূর্ণিমা/বড় দিন-এর ক্ষেত্রে ২ হাজার টাকা করে বোনাস প্রদান করতে হবে। তবে যে সব মসজিদ সরকারি ও দেশি-বিদেশি সংস্থা কর্তৃক অনুদানপ্রাপ্ত, সেসব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সুবিধার বাইরে থাকবে। একইসঙ্গে এই সম্মানী প্রদানের ক্ষেত্রে চলতি অর্থবছরে মার্চ-জুনে ২৪ কোটি ৫৭ সাতান্ন লাখ টাকা প্রয়োজন হবে। আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে নির্বাচিত সব উপকারভোগীর কাছে সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে এই সম্মানী প্রেরণ করা হবে।
তিনি বলেন, ‘সম্মানী হাতে হাতে দেওয়া হবে না। ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে এই টাকা তাদের অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে। অতএব কোনো ধরনের দুর্নীতির সুযোগ আমরা এই সিস্টেমের মধ্যে রাখিনি।’
Leave a comment