ইন্দোনেশিয়ায় সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি ও ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দমনে, পুলিশের কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ব্যবহারের ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় এ ধরনের দমন-পীড়নকে সমালোচকরা ভয়াবহ ও উদ্বেগজনক বলে আখ্যা দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) বানদুং শহরের দুটি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। শিক্ষার্থী সংগঠনগুলো অভিযোগ করেছে, নিরাপত্তা বাহিনী ক্যাম্পাসে প্রবেশ না করলেও ক্যাম্পাসের ভেতরে আশ্রয় নেওয়া শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য করে গ্যাস ছোড়া হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও শিক্ষার্থীদের বয়ানে জানা যায়, ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব বানদুং (ইউএনআইএসবিএ) এবং পাশের পাসুন্দান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা হামলার মুখে পড়েন। পাসুন্দানের শিক্ষার্থী যোগা তাদিয়ালাগা রুচিয়াত বলেন, “শিক্ষাঙ্গন তো নিরপেক্ষ ও নিরাপদ স্থান হওয়ার কথা। অথচ পুলিশ সেখানে সহিংসতা চালিয়েছে।”
ইউএনআইএসবিএ শিক্ষার্থী পরিষদের অভিযোগ, পুলিশ “নৃশংসভাবে” বিক্ষোভ দমন করেছে। তাদের মতে, সরকারের অযৌক্তিক ব্যয় ও আইনপ্রণেতাদের বাড়তি আর্থিক সুবিধা দেওয়ার প্রতিবাদ করাই ছিল আন্দোলনের মূল লক্ষ্য।
প্রথমে রাজধানী জাকার্তায় শুরু হওয়া আন্দোলন এখন দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। গত এক সপ্তাহে সহিংসতায় অন্তত আটজন প্রাণ হারিয়েছেন। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয় যখন একটি পুলিশ ভ্যানের চাপায় এক ট্যাক্সিচালক নিহত হন। এর পরপরই রাজধানীতে ভাঙচুর ও লুটপাটে কয়েক লাখ মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হয়।
স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা হেন্দ্রা রোচমাওয়ান দাবি করেছেন, নিরাপত্তা বাহিনী সরাসরি ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেনি। তারা শুধু ক্যাম্পাসে আশ্রয় নেওয়া বহিরাগতদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করেছে। অন্যদিকে, উত্তেজনা প্রশমনে প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, দায়িত্ব গ্রহণের এক বছরের মধ্যেই এই বিক্ষোভ তাঁর নেতৃত্বের প্রতি বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
ঘটনাটি আন্তর্জাতিক মহলেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া পরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেন, “ইন্দোনেশিয়ার কর্তৃপক্ষ দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ করেছে। তারা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে রাষ্ট্রদ্রোহ বা সন্ত্রাসবাদ হিসেবে বিবেচনা করছে।” জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়ও পুলিশের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে। পর্যবেক্ষকরা আশঙ্কা করছেন, দমননীতি অব্যাহত থাকলে ইন্দোনেশিয়ায় বিক্ষোভ আরও বিস্তার লাভ করতে পারে।
Leave a comment