Home আন্তর্জাতিক ইন্টারনেটে ‘মিম যুদ্ধ’: ট্রাম্পের হুমকির জবাবে ইরানি দূতাবাসগুলোর নজিরবিহীন রসিকতা
আন্তর্জাতিক

ইন্টারনেটে ‘মিম যুদ্ধ’: ট্রাম্পের হুমকির জবাবে ইরানি দূতাবাসগুলোর নজিরবিহীন রসিকতা

Share
Share

ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার উত্তেজনা এবার রণক্ষেত্র ছাড়িয়ে আছড়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দেয়ালে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চরম হুঁশিয়ারি ও বিতর্কিত মন্তব্যের জবাবে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা ইরানি দূতাবাসগুলো প্রথাগত কূটনৈতিক ভাষা বর্জন করে নজিরবিহীন হাস্যরস এবং ‘মিম’ (Meme) যুদ্ধে মেতে উঠেছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় ট্রাম্পের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট থেকে। তিনি মঙ্গলবার দিনটিকে ইরানিদের জন্য ‘পাওয়ার প্ল্যান্ট ডে’ এবং ‘ব্রিজ ডে’ হিসেবে ঘোষণা করে হুমকি দেন যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হরমুজ প্রণালী খুলে না দিলে ইরানকে ‘জাহান্নামের’ স্বাদ ভোগ করতে হবে। ট্রাম্পের এই আগ্রাসী ও কুরুচিপূর্ণ ভাষার বিপরীতে ইরানি মিশনগুলো অত্যন্ত ধারালো ও ব্যঙ্গাত্মক ভাষায় পাল্টা আক্রমণ শুরু করে।

জিম্বাবুয়েতে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস ট্রাম্পের আলটিমেটামকে উপহাস করে লেখে— “আমরা (প্রণালীর) চাবি হারিয়ে ফেলেছি।” এই পোস্টটি মুহূর্তেই ভাইরাল হলে দক্ষিণ আফ্রিকার ইরানি দূতাবাস তাতে যোগ দিয়ে রসিকতা করে লেখে, “চাবিটা টবের নিচে রাখা আছে। তবে তা শুধু বন্ধুদের জন্য খোলা।” তারা মার্কিন কর্মকর্তাদের ছবিতে ক্রস চিহ্ন দিয়ে ‘সফলভাবে শাসন পরিবর্তন হয়েছে’ লিখে ব্যঙ্গাত্মক ‘হা হা’ রিঅ্যাক্ট প্রদান করে।

অন্যদিকে, ভারতে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস সরাসরি আক্রমণাত্মক ভাষায় ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে লেখে, “অসংলগ্ন আচরণ এবং গালিগালাজ কেবল পরাজিত ব্র্যাটদের (অপরিণত) কাজ। বুড়ো মানুষ, নিজেকে সামলান।” থাইল্যান্ডের ইরানি দূতাবাস একধাপ এগিয়ে মন্তব্য করেছে যে, ট্রাম্পের আচরণ দেখে মনে হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুত ‘প্রস্তর যুগে’ পৌঁছে গেছে।

সবচেয়ে আলোচিত পোস্টটি এসেছে সুইডেনের ইরানি দূতাবাস থেকে। তারা একটি ক্ষেপণাস্ত্রের ছবি শেয়ার করে সেটিকে ‘নারী অধিকারের পক্ষে জোরালো কণ্ঠস্বর’ বলে অভিহিত করেছে। ক্ষেপণাস্ত্রের গায়ে বিতর্কিত এপস্টাইন নেটওয়ার্কের শিকার ভার্জিনিয়া গিফ্রের নাম উল্লেখ করে তারা মার্কিন রাজনৈতিক ব্যবস্থার নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাধারণত রাষ্ট্রদূতাবাসগুলো অত্যন্ত মার্জিত ও আনুষ্ঠানিক ভাষা ব্যবহার করে। কিন্তু এবার ইরান ‘ইন্টারনেট কালচার’ ও ‘ডিজিটাল রোস্টিং’কে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ট্রাম্পের কঠোর সামরিক হুমকির বিপরীতে এই ধরনের হালকা অথচ তীক্ষ্ণ প্রতিক্রিয়া বিশ্ববাসীর কাছে এক ধরণের ‘সাইকোলজিক্যাল ওয়ারফেয়ার’ বা মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ হিসেবে কাজ করছে, যা মার্কিন চাপের গুরুত্ব কমিয়ে দেখানোর একটি কৌশল।

 

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Don't Miss

গাজা ইস্যুতে নিরস্ত্রীকরণ নয় সেনা প্রত্যাহার চায় হামাস

গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনাদের সম্পূর্ণ প্রত্যাহার এবং যুদ্ধের স্থায়ী অবসানের গ্যারান্টি ছাড়া নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে কোনো আলোচনা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে ফিলিস্তিনের...

সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সার্ভার কক্ষে আগুন

সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এরাইভাল (আগমন) ইমিগ্রেশন বিভাগের সার্ভার কক্ষে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন...

Related Articles

‘শর্টকাট’ নিতে গিয়ে কুয়ায় পড়ল গাড়ি: একই পরিবারের ৯ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু

ভারতের মহারাষ্ট্রের নাসিক জেলায় এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ৯ জন...

অচেতন মোজতবার চিকিৎসা চলছে ইরানেই, সিদ্ধান্ত গ্রহণে নেই কোনো ভূমিকা’: টাইমসের প্রতিবেদন

ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব নিয়ে তৈরি হওয়া ধোঁয়াশা আরও ঘনীভূত হয়েছে।...

শীর্ষ কমান্ডারদের হত্যা করে ইরানি বাহিনীকে দমানো অসম্ভব’: মোজতবা খামেনি

ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ডারদের পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে তেহরানকে দুর্বল করা সম্ভব নয়...

মার্কিন পাইলট উদ্ধার অভিযানে ভয়াবহ সংঘর্ষ: ইরানের ৪ সেনা কর্মকর্তা নিহত

ইরানের ইসফাহান প্রদেশে বিধ্বস্ত মার্কিন যুদ্ধবিমানের পাইলটদের উদ্ধার অভিযানকে কেন্দ্র করে দু’দেশের...