পরম শ্রদ্ধেয় প্রয়াত বাবার রেখে যাওয়া পাগড়ি মাথায় এবং শরীরে প্রিয় বাবার আবা (জোব্বা) পরিহিত অবস্থায় মসজিদে সাদামাটা আয়োজনে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন ওসমান হাদি। অসাধারণ সেই আবেগঘন ও ঐতিহ্যবাহী সাজের একটি ছবি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই সর্বস্তরের নেটিজেনদের মধ্যে নতুন করে ব্যাপক আলোড়ন ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
আজ বুধবার (২১ অক্টোবর) ওসমান হাদির বিয়ের স্মৃতিচারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি আবেগপূর্ণ বার্তা শেয়ার করেন তার বোন মাসুমা হাদি। পোস্টে তিনি ভাইয়ের অনন্য বিয়ের সাজসজ্জা এবং বিয়ে উদযাপনের দিনটির কথা পরম শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন।
মাসুমা হাদি লেখেন, “গায়ে আব্বার আবা, মাথায় আব্বার পাগড়ি, আমাদের ওসমান গনি বিয়ের সাজে। জুমার নামাজ শেষে মসজিদে ওসমান গনির বিয়ে সম্পন্ন হয়েছিল।” পোস্টের কমেন্ট বক্সে তিনি উল্লেখ করেন যে, তাদের বাবা ২০১২ সালে মৃত্যুবরণ করেছিলেন। পোস্টটিতে অসংখ্য মানুষ হাদির স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে মন্তব্য করেছেন। রাবেয়া নুর নামে এক ব্যবহারকারী লেখেন, হাদি বেঁচে থাকবেন যুগের পর যুগ সাধারণ মানুষের হৃদয়ে।
নিহত ওসমান হাদির জন্ম ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলায়। তার বাবা শরীফ আব্দুল হাদি ছিলেন স্থানীয় একজন সৎ মাদ্রাসা শিক্ষক ও ইমাম। পরিবারের ৬ ভাইবোনের মধ্যে হাদি ছিলেন সবার ছোট। স্থানীয় নলছিটি ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা ও ঝালকাঠি এন এস কামিল মাদ্রাসা থেকে প্রাথমিক ও আলিম শিক্ষা শেষ করে তিনি ঐতিহ্যবাহী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
শিক্ষাজীবন শেষে ওসমান হাদি ‘ইউনিভার্সিটি অব স্কলার্স’-এর ইংরেজি বিভাগে শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। লেখালেখির জগতে ‘সীমান্ত শরিফ’ ছদ্মনামে ২০২৪ সালের বইমেলায় তার একটি কাব্যগ্রন্থও প্রকাশিত হয়। প্রচলিত ধারার রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা নিয়ে এক নতুন সামাজিক ও রাজনৈতিক ধারার স্বপ্ন দেখতেন এই তরুণ। তার ক্ষুরধার বক্তব্য সাধারণ মানুষকে আকৃষ্ট করত। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর বিজয়নগরে আততায়ীদের গুলিতে গুরুতর আহত হওয়ার পর ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় না ফেরার দেশে চলে যান তিনি।
Leave a comment