রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সীমান্তবর্তী জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা সাজেক ইউনিয়নে পুনরায় শুরু হওয়া অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় লুসাই, ত্রিপুরা, চাকমা ও মারমা জাতিগোষ্ঠীর অন্তত ৩০ হাজার বাসিন্দা। খাগড়াছড়ির দীঘিনালার জোড়াব্রীজ থেকে সাজেক ভ্যালি এবং এর আশপাশের অভ্যন্তরীণ সড়কে এই অবরোধ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। পরিবহন বন্ধ থাকায় স্থানীয় হাট-বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে এবং জুমচাষিরা তাঁদের উৎপাদিত ফসল বাজারে সরবরাহ করতে পারছেন না।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই সাজেকগামী সড়কগুলোতে কোনো যানবাহন চলাচল করতে দেখা যায়নি। অবরোধকারীরা বিভিন্ন পয়েন্টে টায়ার জ্বালিয়ে পিকেটিং চালাচ্ছে। সাজেক থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ আহ্বানে দ্বিতীয় দফায় এই অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ শুরু হয়েছে। এর আগে পর্যটকদের নিরাপদে ফিরিয়ে নেওয়ার স্বার্থে ৪৮ ঘণ্টার জন্য আন্দোলন শিথিল করা হলেও দাবি আদায় না হওয়ায় পুনরায় এই কঠোর কর্মসূচি ডাক দেওয়া হয়। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন সাজেক ভ্রমণে অনির্দিষ্টকালের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে, যার ফলে স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায় ধস নেমেছে।
সংবাদ সূত্রের ভাষ্যমতে, পাহাড়ের দুটি প্রভাবশালী আঞ্চলিক সংগঠন—ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস-সন্তু লারমা গ্রুপ) মধ্যে এলাকাভিত্তিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বেশ কিছুদিন ধরে চলা সংঘাতই এই অস্থিরতার মূল কারণ। সম্প্রতি মাচালং এলাকায় দুই পক্ষের গোলাগুলিতে এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর থেকে পাহাড়ি জনপদে আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় খাগড়াছড়ি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কে এম ওবায়দুল হক স্পষ্ট জানিয়েছেন, জননিরাপত্তা বজায় রাখতে অস্ত্রধারী ও শান্তিবিনাশী চক্রগুলোর বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী কঠোর অভিযান পরিচালনা করবে। অন্যদিকে সাজেক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে পর্যটনকেন্দ্রগুলো দ্রুত খুলে দেওয়ার দাবিতে খাগড়াছড়ি শহরের শাপলা চত্বরে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে স্থানীয় পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও পেশাজীবী সংগঠনগুলো।
Leave a comment