জাতীয় প্রেসক্লাব এলাকায় দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এবং পরবর্তী সময়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় ‘নতুন ধারা বাংলাদেশ’-এর সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানাসহ দলের শীর্ষ ছয় নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে শাহবাগ থানা পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে হাসপাতাল থেকে কড়া নিরাপত্তায় তাদের উদ্ধার করে থানায় নেওয়ার পর বুধবার (৫ আগস্ট) আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও শহীদদের নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে গত কয়েক দিন ধরেই রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম ও নতুন ধারা বাংলাদেশের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উভয় পক্ষ জাতীয় প্রেসক্লাব এলাকায় পৃথক কর্মসূচি পালনকালে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে কয়েকজন গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে আহতরা চিকিৎসার জন্য ঢামেক হাসপাতালে গেলে সেখানে ‘মঞ্চ-২৪’-এর নেতাকর্মীরা রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সমর্থনে এসে আবারও নতুন ধারা বাংলাদেশের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও অবরুদ্ধ করে রাখে। এ ঘটনার কারণে ঢামেকের জরুরি বিভাগে প্রায় দেড় ঘণ্টা চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন-নতুন ধারা বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদী, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানা, ভাইস চেয়ারম্যান ড. নুরজাহান নীরা, যুগ্ম মহাসচিব মনির জামান, সাংগঠনিক সম্পাদক আতাপ মণ্ডল এবং হরিদাস সরকার। রমনা বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (এডিসি) ও শাহবাগ থানার ওসি নিশ্চিত করেছেন যে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও শহীদদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য এবং হাসপাতালে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির দায়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে।
পরিস্থিতি নিয়ে উভয় পক্ষই একে অপরকে দোষারোপ করেছে। শান্তা ফারজানা দাবি করেছেন, তাদের শান্তিপূর্ণ মশাল মিছিলে অতর্কিত হামলা চালিয়ে ঢামেকেও হেনস্তা করা হয়। অন্যদিকে রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম ও মঞ্চ-২৪-এর পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, নতুন ধারা বাংলাদেশের নেতারা শহীদ আবু সাঈদ, ধর্ম এবং জাতীয় শীর্ষ নেতাদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করায় সাধারণ জনতা ও বিবাদমান পক্ষ প্রতিবাদ জানালে তারা সহিংস রূপ নেয়।
Leave a comment