বিয়ের মাত্র পাঁচ মাসের মাথায় পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হয়ে সাবিয়া রানী (১৯) নামক এক তরুণীর মৃত্যুর ঘটনায় যুক্তরাজ্যের একটি আদালত একই পরিবারের চার সদস্যকে দোষী সাব্যস্ত করেছে। দীর্ঘ শুনানির পর লিডস ক্রাউন কোর্ট এই রায় প্রদান করে। এই ঘটনাটি প্রবাসী কমিউনিটিসহ পুরো যুক্তরাজ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
আদালতে উপস্থাপিত তথ্যানুযায়ী, নিহত সাবিয়া রানী লিডসের রাউন্ডহে এলাকার ওকউড গ্রেঞ্জে তাঁর স্বামীর পরিবারের সঙ্গে বসবাস করতেন। ইংল্যান্ডে আসার পর থেকেই তিনি ধারাবাহিকভাবে ভয়াবহ শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সাবিয়ার শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন ছিল। এমনকি তাঁর শরীরের অন্তত ১৫টি পাঁজরের হাড় ভাঙা ছিল , যা দীর্ঘদিনের পৈশাচিক নির্যাতনের সাক্ষ্য দেয়।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে যে, সাবিয়াকে কার্যত গৃহবন্দী করে রাখা হতো। পরিবারের সদস্যদের অনুমতি বা তত্ত্বাবধান ছাড়া তাঁকে বাইরে যেতে দেওয়া হতো না। এমনকি নিজের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বা সাহায্যের জন্য কারও সঙ্গে যোগাযোগ করার সুযোগও পাননি এই অসহায় তরুণী।
এই হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা হিসেবে সাবিয়ার স্বামী শাজাদ খানকে আগেই যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। এবার আদালত তাঁর পরিবারের অন্য চার সদস্যকেও এই অপরাধে সহযোগিতার জন্য দোষী সাব্যস্ত করেছে। অভিযুক্তরা হলেন—শাজাদ খানের মা ফুলান বিবি (৫২), দুই বোন উজমা খান (২৩) ও নাজিয়া নওরিন (২৮) এবং নওরিনের স্বামী মাজিদ হোসেন (২৮)।
বিচারক জেমস স্টুয়ার্ট কিউসি তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেন, অভিযুক্তরা একজন অসহায় ও তরুণী বধূর ওপর অমানবিক নির্যাতন চালিয়ে তাঁর মৃত্যুর পরিবেশ তৈরি করেছিলেন। যদিও সাজা ঘোষণার আগ পর্যন্ত আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাঁরা বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।
যুক্তরাজ্যে এই মামলাটি গৃহ নির্যাতনের বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও কমিউনিটি নেতারা এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁরা বলছেন, পারিবারিক সম্মানের দোহাই দিয়ে বা গৃহবন্দী করে নির্যাতনের বিরুদ্ধে এই রায় একটি শক্তিশালী বার্তা দেবে। সাবিয়া রানীর এই করুণ মৃত্যু আবারও নারীদের সুরক্ষা ও পারিবারিক সহিংসতার বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতার প্রয়োজনীয়তাকে সামনে নিয়ে এসেছে।
Leave a comment