ভারতের উত্তর প্রদেশের বান্দা জেলায় পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রিকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে এক যুবক তার জন্মদাত্রী মা এবং ছোট ভাইকে গুলি করে হত্যা করেছে। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে রোববার (১০ মে) সকালে, যখন বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছিল ‘মা দিবস’। অভিযুক্ত রাজকিশোর ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছে।
স্থানীয় পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীর সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকালে বান্দার একটি আবাসিক এলাকায় হঠাৎ গুলির শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিবেশীরা ঘর থেকে বেরিয়ে আসার আগেই ঘটনাস্থলে রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, রাজকিশোরের বাবা তাদের পৈতৃক সম্পত্তির একটি অংশ সম্প্রতি বিক্রি করেছিলেন। এই বিক্রয় প্রক্রিয়ায় রাজকিশোরের মতামতকে গুরুত্ব না দেওয়ায় তিনি পরিবারের ওপর চরম ক্ষুব্ধ ছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সম্পত্তি বিক্রির অর্থ ভাগাভাগি নিয়ে রাজকিশোরের সাথে তার মা ও ছোট ভাইয়ের তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। তর্কের একপর্যায়ে ক্রোধের বশবর্তী হয়ে রাজকিশোর তার কাছে থাকা পিস্তল বের করে সরাসরি মা এবং ছোট ভাইকে লক্ষ্য করে গুলি চালান। গুলির শব্দ শুনে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দিলে দ্রুত একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। রক্তাক্ত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা পলাশ বানসাল গণমাধ্যমকে জানান, “প্রাথমিক তদন্তে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে মনে হচ্ছে। পৈতৃক জমি বিক্রির বিরোধই এই নৃশংস ঘটনার মূল কারণ। আমরা ফরেনসিক দল পাঠিয়ে আলামত সংগ্রহ করেছি এবং মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।”
পুলিশ আরও জানিয়েছে যে, অভিযুক্ত রাজকিশোর গুপ্ত পেশাদার অপরাধী কি না বা তার কাছে থাকা অস্ত্রটি লাইসেন্সধারী কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত আত্মগোপনে রয়েছেন।
হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত রাজকিশোরকে গ্রেপ্তারের জন্য জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে চারটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। সম্ভাব্য সকল স্থানে তল্লাশি চালানো হচ্ছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। পলাশ বানসাল আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, খুব দ্রুতই ঘাতক রাজকিশোরকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।
Leave a comment