দেশের পৃথক দুটি জেলায় ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে এক স্কুলছাত্র ও এক কলেজছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় বৈশাখী মেলায় বিরোধের জেরে নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে, লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে কলেজছাত্রীর মৃত্যুকে ঘিরে উঠেছে হত্যার অভিযোগ। ।
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার পদুরবাড়ী মাঠে বৈশাখী মেলা চলাকালে মো. সিয়াম (১৫) নামের এক স্কুলছাত্রকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। নিহিত সিয়াম উপজেলার শিবপুর গ্রামের আবদুস সালামের ছেলে এবং মানকোন উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বন্ধুদের সঙ্গে মেলায় গিয়েছিল সিয়াম। সেখানে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে বন্ধুদের দুটি পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়।
উপস্থিত স্থানীয়রা বিষয়টি মীমাংসা করে দিলেও কিছুক্ষণ পর সিয়ামকে একা পেয়ে প্রতিপক্ষরা বেধড়ক মারধর করে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে শুক্রবার ভোরে তার মৃত্যু হয়। মুক্তাগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে নাজমুল (৩৫) ও এক কিশোরসহ দুজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
এদিকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে নুসরাত জাহান সুমাইয়া (২২) নামের এক কলেজছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সুমাইয়া হাজিরহাট উপকূল সরকারি কলেজের ডিগ্রি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। এই ঘটনায় তার স্বামী সজিব আহমেদ জয়কে (২৭) আটক করা হলেও পরিবারের অন্য সদস্যরা পলাতক রয়েছেন।
জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে পরিবারের অমতে সুমাইয়া ও জয় আদালতের মাধ্যমে বিয়ে করেন। এই বিয়ে মেনে না নেওয়ায় দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। শুক্রবার রাতে সুমাইয়া গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে দাবি করা হলেও নিহতের বাবা আবুল কালামের অভিযোগ, তার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। শুক্রবার গভীর রাতে পুলিশ উপজেলার দক্ষিণ চরকাদিরা ইউনিয়ন থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। উভয় ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে।
Leave a comment