মধ্যপ্রাচ্যের চরম উত্তেজনার মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি আলোচনার দাবিকে ঘিরে এক নতুন কূটনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা স্থগিতের ঘোষণা দিয়ে ট্রাম্প যে আলোচনার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, তাকে সরাসরি ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে তেহরান।
সোমবার (২৩ মার্চ) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে “গঠনমূলক আলোচনা” শুরু হয়েছে। এই আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা আপাতত পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত করেছেন। ট্রাম্পের এই বক্তব্যে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ার এবং সংঘাত প্রশমনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল।
তবে ট্রাম্পের এই দাবিকে অস্বীকার করে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি আধা-সরকারি গণমাধ্যম ‘মেহের নিউজ’-কে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা হয়নি।” আরাগচি মনে করেন, ট্রাম্প মূলত বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম কমানোর উদ্দেশ্যে এবং নিজের রাজনৈতিক স্বার্থে এমন বক্তব্য দিচ্ছেন। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, “যখন সময় আসবে, তখন ট্রাম্প তার সামরিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবেন।”
উল্লেখ্য, এর আগে গত শনিবার ট্রাম্প ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার চরম আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া না হলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিধ্বংসী হামলা চালানো হবে। তবে আল্টিমেটাম শেষ হওয়ার পর হঠাৎ করে আলোচনার দাবি তুলে হামলা স্থগিতের ঘোষণা দেন তিনি।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি স্পষ্ট করেছেন যে, আঞ্চলিক দেশগুলো উত্তেজনা কমাতে সক্রিয় থাকলেও তাদের উচিত সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কথা বলা, কারণ ওয়াশিংটনই এই সংঘাতের সূত্রপাত করেছে। অন্যদিকে, ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, তেহরানের পাল্টা শক্তিশালী হামলার হুমকির মুখেই ট্রাম্প পিছু হটতে বাধ্য হয়েছেন।
উভয় পক্ষের এই পরস্পরবিরোধী অবস্থানে মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক অনিশ্চয়তা আরও ঘনীভূত হচ্ছে। আল-জাজিরার তথ্যমতে, পরবর্তী পাঁচ দিনের এই বিরতি যুদ্ধের মোড় ঘোরাবে নাকি বড় কোনো সংঘাতের পূর্বাভাস, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
Leave a comment