ভারতের উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদে তিন কিশোরী বোনের মৃত্যুকে ঘিরে শোক ও প্রশ্ন—দুটিই জোরালো হয়ে উঠেছে। নিশিকা (১৬), প্রাচী (১৪) ও পাখি (১২)–এর মৃত্যুকে প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা হিসেবে ধরে তদন্ত করছে পুলিশ। ঘটনাটির পেছনে একাধিক সামাজিক ও পারিবারিক উপাদান কাজ করেছে বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
পুলিশ জানায়, নিহতদের পরিবার দীর্ঘদিন ধরেই আর্থিক সংকটে ভুগছিল। বাবা চেতন কুমার পেশায় স্টক ট্রেডার; তাঁর বড় অঙ্কের ঋণ ছিল। পারিবারিক কাঠামোও ছিল জটিল—দুই স্ত্রী, একাধিক সন্তান এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন এক সন্তানের দায়িত্ব—যা পরিবারে দীর্ঘস্থায়ী চাপ তৈরি করেছিল বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।
তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অর্থনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে মেয়েদের পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটে এবং তারা ঘরকেন্দ্রিক হয়ে পড়ে। এসময় তিন বোন কোরিয়ান সংস্কৃতি, বিশেষ করে কে-ড্রামা ও কে-পপের প্রতি তীব্র আসক্তি তৈরি করে। তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোরিয়ান সাজে ‘মারিয়া’, ‘আলিজা’ ও ‘সিন্ডি’ নামে একটি অ্যাকাউন্ট চালাত, যা অনেক ফলোয়ার ছিল। কিন্তু প্রায় ১০ দিন আগে বাবা সেই অ্যাকাউন্ট মুছে দেন, মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে বিক্রি করে দেন।
তাদের বাবা তিন বোনকে দ্রুত বিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। কিন্তু বোনেরা বলেছিল, আমরা ভারতীয় নই, আমরা কোরিয়ান, তাই বিয়ে এখানে করতে পারব না। পুলিশের এক সূত্র বলেছে, বাবা দাবি করেছিলেন তারা একটি কোরিয়ান গেম খেলত যার শেষ ধাপে আত্মহত্যার নির্দেশ ছিল।
এদিকে, বাসা থেকে একটি চিরকুট ও ব্যক্তিগত ডায়েরি উদ্ধার করেছে পুলিশ। সেগুলোর বিষয়বস্তু যাচাই-বাছাই চলছে। তদন্তকারীরা জোর দিচ্ছেন—এটি কোনো একক কারণের ফল নয়; বরং আর্থিক অনিশ্চয়তা, পারিবারিক দ্বন্দ্ব, কিশোর বয়সের আবেগগত সংবেদনশীলতা এবং যোগাযোগের ঘাটতি মিলেই পরিস্থিতি জটিল হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও সমাজকর্মীদের মতে, ঘটনাটি কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়ে পরিবার, স্কুল ও সমাজের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিশোরদের আচরণে হঠাৎ পরিবর্তন, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা বা গভীর হতাশার লক্ষণ দেখা গেলে তা গুরুত্ব দিয়ে দেখা জরুরি।
Leave a comment