পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানে এক হাতুড়ে চিকিৎসককে হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার যুবক জীবন রুইদাস নিজের কর্মকাণ্ড নিয়ে একদমই অনুতপ্ত নয় বলে মন্তব্য করেছেন। বুধবার পুলিশি তত্ত্বাবধানে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তাঁকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি দাবি করেন, ভবিষ্যতে অন্যদের প্রাণহানি ঠেকাতেই তিনি এ কাজ করেছেন।
অভিযুক্তের কথায়, তাঁর ব্যক্তিগত ক্ষতি আর পূরণ হবে না, তবে অন্য কেউ যেন একই পরিণতির শিকার না হন, সেই উদ্দেশ্যেই তিনি হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। আইন নিজের হাতে নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, আইনি প্রক্রিয়ার ফাঁকফোকরে অভিযুক্ত ব্যক্তি পার পেয়ে যেতে পারতেন—এমন আশঙ্কা থেকেই তিনি এ পদক্ষেপ নেন। আদালত যদি মৃত্যুদণ্ড দেয়, সে ক্ষেত্রেও নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকার ইঙ্গিত দেন তিনি।
মঙ্গলবার ওই যুবক বর্ধমান থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন। অভিযোগ, তিনি স্থানীয় এক ব্যক্তিকে, যাকে তিনি ‘হাতুড়ে চিকিৎসক’ বলে দাবি করছেন, তার চেম্বারে ঢুকে আক্রমণ করেন। যুবকের দাবি, ভুল চিকিৎসার ফলে তাঁর ঠাকুমার মৃত্যু হয়েছিল এবং সেই ঘটনার জেরেই তিনি প্রতিশোধ নেন।
বুধবার অভিযুক্তকে বর্ধমান আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাঁকে সাত দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তদন্তকারীরা ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ, পূর্ববর্তী চিকিৎসা সংক্রান্ত অভিযোগের সত্যতা এবং অভিযুক্তের বক্তব্য যাচাই করছেন।
অন্যদিকে, নিহত ব্যক্তির দেহ ময়নাতদন্তের পর পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। পরে বর্ধমানের নির্মলঝিল শ্মশানে শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, চিকিৎসা সংক্রান্ত অভিযোগ থাকলে তার আইনি প্রতিকার রয়েছে, তবে ব্যক্তিগত প্রতিশোধমূলক সহিংসতা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত চলছে এবং সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
Leave a comment