নোয়াখালীর সদর উপজেলায় একটি মাদরাসায় অধ্যয়নরত পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের চেষ্টার অভিযোগে এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয়ভাবে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকাল প্রায় ১১টার দিকে সদর উপজেলার কালাদরাফ ইউনিয়নের একটি মাদরাসায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। পরদিন মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরের দিকে একই ইউনিয়নের উত্তর শুল্লুকিয়া গ্রাম থেকে অভিযুক্ত মো. রুহুল আমিন (২৩)–কে আটক করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাদরাসার প্রথম শ্রেণির ওই ছাত্রী বিরতির সময় মাঠে খেলছিল। এ সময় অভিযুক্ত শিক্ষক তাকে একটি কক্ষে নিয়ে যান । সেখানে শিশুটির সঙ্গে অনৈতিক আচরণের চেষ্টা করা হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার পর শিশুটি বাড়িতে ফিরে মায়ের কাছে বিষয়টি জানায়। পরে তার মা সুধারাম থানায় লিখিত অভিযোগ (এজাহার) দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মামলা রুজু করে এবং দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে।
আটক মো. রুহুল আমিন সুবর্ণচর উপজেলার পশ্চিম চরজব্বর গ্রামের বাসিন্দা বলে জানিয়েছে পুলিশ। তিনি সংশ্লিষ্ট মাদরাসায় শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে তার পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হবে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত শিক্ষককে বুধবার সকালে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হবে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন অনুযায়ী, অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুর প্রতি যৌন সহিংসতার চেষ্টা গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয় এবং প্রমাণিত হলে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে।
Leave a comment