ময়মনসিংহ নগরের টাউন হলের তারেক স্মৃতি অডিটোরিয়ামে আজ শনিবার অনুষ্ঠিত হলো জাতীয়তাবাদী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী দলের প্রথম জাতীয় সমাবেশ। এ সমাবেশে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, দীর্ঘ স্বৈরাচারী শাসনের পর এখন দেশে সবার নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার একটি সুবর্ণ সুযোগ এসেছে। ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষেরা অতীতে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে, আজও তাদের সেই ভূমিকা অপরিহার্য।
সকাল থেকে সমতল ও পাহাড়ি অঞ্চলের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সদস্যরা সমাবেশস্থলে আসতে শুরু করেন। দেশের ১২টি জেলা থেকে গারো, হাজং, মণিপুরি, বানাই, বর্মণ, খাসিয়া, কোচ, হদি, ত্রিপুরাসহ ১৮টি জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা এতে যোগ দেন। ঐতিহ্যবাহী বরণ নৃত্যের মাধ্যমে তারা ভার্চ্যুয়ালি উপস্থিত তারেক রহমানকে স্বাগত জানান।
তারেক রহমান বলেন, আগামী ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের লক্ষ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ইতিমধ্যে রূপরেখা ঘোষণা করেছে। বিএনপি একটি নিরাপদ ও কর্মসংস্থানমুখী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নির্বাচনে সবার সমর্থন চায়। তিনি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জন্য পৃথক মন্ত্রণালয় ও ভূমি কমিশন গঠন, সংসদের উচ্চকক্ষে প্রতিনিধিত্ব এবং সংরক্ষিত আসনের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আরও বলেন, সমতলে বসবাসরত ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর চাকরিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া পাহাড়ি অঞ্চলের তুলনায় বেশি জটিল। বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে এ প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগ নেবে। তিনি উল্লেখ করেন, শহীদ জিয়াউর রহমানের সঙ্গে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর নিবিড় সম্পর্ক ছিল এবং আজকের সমাবেশ সেই বন্ধনের প্রতীক।
তিনি বলেন, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সংস্কৃতি, ভাষা ও ধর্ম রক্ষার পাশাপাশি শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ গ্রহণ করা জরুরি। একইসঙ্গে গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার চর্চায় তাদের সক্রিয় থাকার আহ্বান জানান। তারেক রহমানের মতে, পাহাড়ি বা সমতল যেখানেই হোক, প্রতিটি মানুষ আগে বাংলাদেশি নাগরিক, সুতরাং সবার অধিকার সমানভাবে নিশ্চিত করতে হবে।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী দলের সভাপতি মৃগেন হাগিদক এবং সঞ্চালনা করেন সাংগঠনিক সম্পাদক জন জেত্রা। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আরও বক্তব্য দেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বিজন কান্তি সরকার, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী দলের সাধারণ সম্পাদক শিশির দিও, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জিব দ্রং, বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রমোদ চন্দ্র বর্মণ, ইউজিন নকরেক, বিপুল হাজং, হিরামন হেলেনা তালাং প্রমুখ।
সমাবেশে বক্তারা ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর উন্নয়ন, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার দাবি জানান। তারা বলেন, রাষ্ট্রের মূলধারার বাইরে থেকে নয়, বরং সমান নাগরিক হিসেবে অংশগ্রহণের সুযোগ পেলে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী দেশের সার্বিক উন্নয়নে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারবে।
Leave a comment