পাপুয়া নিউগিনির ক্রিকেটার কিপলিন দোরিগা ডাকাতির অভিযোগে ব্রিটেনের অধীন স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল জার্সিতে গ্রেপ্তার হয়েছেন। ২০২১ ও ২০২৪ সালের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া এই উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান বর্তমানে জার্সিতে অনুষ্ঠিত ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের চ্যালেঞ্জ লিগ খেলতে গিয়েছিলেন। কিন্তু খেলার মাঠ থেকে হঠাৎই তিনি খবরের শিরোনামে এসেছেন ডাকাতির ঘটনায় সম্পৃক্ত থাকার কারণে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইটগুলো জানিয়েছে, গত সোমবার সকালে রাজধানী সেন্ট হেলিয়ারে একটি ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এতে দোরিগার সম্পৃক্ততার অভিযোগ আনা হয়। পরবর্তীতে বুধবার তাঁকে স্থানীয় ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তোলা হলে তিনি অভিযোগ স্বীকার করেন। আদালত মামলাটিকে গুরুতর বিবেচনা করে রয়্যাল কোর্টে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। সেখানে আগামী ২৮ নভেম্বর তাঁর হাজিরা দেওয়ার কথা রয়েছে। এ সময় পর্যন্ত জামিন না মেলায় দোরিগাকে জার্সিতেই হেফাজতে রাখা হবে।
চ্যালেঞ্জ লিগ খেলতে মাত্র এক সপ্তাহ আগে দল নিয়ে জার্সিতে পৌঁছেছিল পাপুয়া নিউগিনি। এ গ্রুপে প্রথম দুটি ম্যাচে অংশ নেন দোরিগা। ডেনমার্কের বিপক্ষে তিনি করেন ৬৮ রান এবং কুয়েতের বিপক্ষে ১২ রান। কিন্তু এরপরপরই ডাকাতিতে জড়িত হয়ে ধরা পড়েন তিনি। এর ফলে কেনিয়া ও স্বাগতিক জার্সির বিপক্ষে ম্যাচে অংশ নিতে পারেননি। আগামীকাল কাতারের বিপক্ষে দলের শেষ ম্যাচেও তিনি স্বাভাবিকভাবেই খেলবেন না।
এ ঘটনায় ক্রিকেট অঙ্গনে বিস্ময় ছড়িয়ে পড়েছে। জাতীয় দলের হয়ে এ পর্যন্ত ৩৯ ওয়ানডে ও ৪৩ টি–টোয়েন্টি খেলেছেন দোরিগা। দুটি সংস্করণ মিলিয়ে করেছেন ১ হাজার ৮৯ রান, সঙ্গে ক্যাচ নিয়েছেন ৪৯টি এবং স্টাম্পিং করেছেন ১১টি। তবে মাঠের সাফল্যের সবকিছুই এখন আড়ালে চলে গেছে তাঁর অপরাধের কারণে।
পাপুয়া নিউগিনি দলের জন্য এই ঘটনাকে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিয়মিত অংশ নেওয়া একটি দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য এমন গুরুতর অপরাধে সম্পৃক্ত হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে দলীয় শৃঙ্খলা এবং খেলোয়াড়দের মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে। ক্রিকেটবিশ্বে এই ঘটনা এক অস্বস্তিকর আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
Leave a comment