সাইবার জগতে নতুন এক আতঙ্কের নাম ‘প্রম্পটলক’। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি এই ম্যালওয়্যারকে ঘিরে বিশ্বব্যাপী সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সম্প্রতি সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ইসেট জানিয়েছে, হ্যাকাররা এই ম্যালওয়্যার ব্যবহার করে র্যানসমওয়্যার আক্রমণ চালাচ্ছে, যা প্রচলিত নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সহজেই ফাঁকি দিচ্ছে।
ইসেটের তথ্যমতে, প্রম্পটলক ম্যালওয়্যার যন্ত্রে প্রবেশ করেই ওপেনএআইয়ের জিপিটি-ওএসএস:২ওবি মডেলের সহায়তায় তাৎক্ষণিক ক্ষতিকর লুয়া স্ক্রিপ্ট তৈরি করে। যেহেতু পুরো প্রক্রিয়াটি আক্রান্ত ব্যবহারকারীর ডিভাইসের ভেতরেই সম্পন্ন হয়, তাই ওপেনএআইয়ের পক্ষে ম্যালওয়্যার শনাক্ত করা বা ব্যবহারকারীদের সতর্কবার্তা পাঠানো সম্ভব হয় না। এর ফলে আক্রান্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বুঝে ওঠার আগেই বিপুল তথ্য চুরির শিকার হতে পারে।
গবেষকেরা জানিয়েছেন, প্রম্পটলক প্রতিবার নতুন কৌশলে আক্রমণ চালায় এবং প্রতিবার আলাদা স্ক্রিপ্ট তৈরি করে। এতে করে প্রচলিত অ্যান্টিভাইরাস বা নিরাপত্তা সফটওয়্যারের পক্ষে ম্যালওয়্যার শনাক্ত করা প্রায় অসম্ভব হয়ে যায়। শুধু তথ্য চুরি নয়, অনেক ক্ষেত্রে এটি ফাইল এনক্রিপ্ট করে দেয়। হ্যাকারদের দাবি অনুযায়ী অর্থ না দিলে ফাইলগুলো আর কখনো ব্যবহার করা যায় না, অনেক সময় তা স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে যায়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি ম্যালওয়্যার সাইবার অপরাধের এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের তথ্যভান্ডার হ্যাক হওয়া এবং নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হওয়ার ঘটনা বেড়েই চলেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হলো এআই-নির্ভর র্যানসমওয়্যার হামলার ঝুঁকি, যা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলতে পারে।
ইসেট ব্যবহারকারীদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি শক্তিশালী সাইবার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষ করে নিয়মিত সফটওয়্যার আপডেট, শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার, ব্যাকআপ রাখা এবং অচেনা লিংক বা ফাইল থেকে বিরত থাকার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকেরা বলছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানবজীবনে যেমন সুবিধা এনে দিয়েছে, তেমনি এর অপব্যবহার সাইবার নিরাপত্তার জন্য নতুন হুমকি তৈরি করছে। আর এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিকল্প নেই।
Leave a comment