কক্সবাজারের টেকনাফে নাফ নদী সীমান্ত অতিক্রম করে মিয়ানমারের জলসীমায় ঢুকে পড়া ১৯টি ট্রলারসহ ১২২ বাংলাদেশি জেলেকে ফেরত এনেছে কোস্টগার্ড। শুক্রবার সকাল থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত টেকনাফ পৌরসভার জালিয়াপাড়া থেকে শাহপরীর দ্বীপ মোহনা পর্যন্ত নদীর বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোস্টগার্ড সদর দপ্তরের গণমাধ্যম কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক।
তিনি জানান, রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাতের কারণে সীমান্তের বড় অংশ বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ফলে শূন্যরেখা অতিক্রম করলেই জেলেদের ধরে নিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। জেলেদের নিরাপদে ফেরাতে গিয়ে কোস্টগার্ড ও সীমান্তে নিয়োজিত অন্যান্য বাহিনীকে নানা বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। এতে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ, মাদক ও অস্ত্রপাচার রোধেও বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে।
ফেরত আসা জেলেরা বর্তমানে শাহপরীর দ্বীপ কোস্টগার্ড স্টেশনে রয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলছে। তবে তাঁদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। এ বিষয়ে বিকেলে শাহপরীর দ্বীপ জেটিতে সংবাদ সম্মেলন করার কথা রয়েছে।
ট্রলারমালিকদের দাবি, সাগরে মাছ ধরতে গেলে নাইক্ষ্যংদিয়া পয়েন্ট দিয়েই যেতে হয়। অন্যথায় সাগরে মাছ ধরা বন্ধ হয়ে যাবে। মালিকদের তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ থেকে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত ২৩ দিনে আরাকান আর্মি ১০টি ট্রলারসহ ৬৩ জন জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে। গত বছরের ডিসেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে মোট ২৬৭ বাংলাদেশি জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে তারা। এর মধ্যে ১৮৯ জনকে ফেরত আনা সম্ভব হলেও বাকিদের এখনো মুক্ত করা যায়নি।
স্থানীয় জেলেদের অভিযোগ, সীমান্তে সংঘাত বাড়ায় তাঁদের জীবন ও জীবিকা দুটোই চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। অন্যদিকে সীমান্তে টহল জোরদার করলেও প্রায়ই এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটছে, যা সীমান্ত নিরাপত্তাকে নতুন করে ভাবনায় ফেলছে।
Leave a comment