ইতিহাসের পাতায় টিকে থাকা কিছু স্থাপনা কেবল নির্মাণশৈলীর জন্য নয়, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় গুরুত্বের কারণেও বিশেষ মর্যাদা অর্জন করেছে। ইসলামের প্রাচীন মসজিদগুলো তারই অন্যতম উদাহরণ। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে দাঁড়িয়ে থাকা এই মসজিদগুলো সময়ের সাক্ষী হয়ে আছে, বহুবার সংস্কার ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে আজও অটুটভাবে টিকে আছে। সম্প্রতি ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন ১০ মসজিদের তালিকা প্রকাশ করেছে, যার মধ্যে পাঁচটির অবস্থান সৌদি আরবে।
তালিকার শীর্ষে আছে মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারাম, যা কাবা শরিফকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এবং হজ ও ওমরাহর প্রধান কেন্দ্র। একইভাবে মদিনার কুবা মসজিদ ও মসজিদে নববি ইসলামের ইতিহাসে অপরিসীম গুরুত্ব বহন করে। বিশেষ করে মসজিদে নববিতে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর রওজা মোবারক থাকায় এটি মুসলিমদের কাছে দ্বিতীয় সর্বাধিক পবিত্র স্থান হিসেবে বিবেচিত।
এছাড়া রয়েছে মসজিদুল কিবলাতাইন, যেখানে কিবলা পরিবর্তনের ঘটনা ঘটেছিল। চীনের গুয়াংজুতে সপ্তম শতকে নির্মিত হুয়াইশেং মসজিদ আরব উপদ্বীপের বাইরে প্রথম মসজিদ হিসেবে ইতিহাসে স্থান পেয়েছে। সোমালিয়ার জেইলা অঞ্চলে প্রাচীন মসজিদ আল-কিবলাতাইন এবং ভারতের কেরালার চেরামান জুমা মসজিদ ইসলামের বিস্তারের সাক্ষ্য বহন করে। তামিলনাড়ুর পালাইয়া জুমাপল্লিও ভারতীয় উপমহাদেশের প্রাচীনতম মসজিদগুলোর মধ্যে অন্যতম।
সৌদি আরবের হফুফ এলাকার জওয়াথা মসজিদ ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এখানে একসময় কাবার হাজরে আসওয়াদ সংরক্ষিত ছিল। অপরদিকে ইরাকের কুফার গ্রেট মসজিদ মুসলিমদের কাছে মর্যাদাপূর্ণ স্থান, যেখানে ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বদের সমাধি রয়েছে।
ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের সমন্বয়ে এই মসজিদগুলো শুধু স্থাপত্য নয়, বরং ইসলামী সভ্যতার অমূল্য নিদর্শন হিসেবে আজও বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের কাছে গভীর শ্রদ্ধা ও গৌরবের প্রতীক হয়ে আছে।
Leave a comment