ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান নিয়ে খোদ যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেই তীব্র অসন্তোষ ও জনরোষ দানা বাঁধছে। সম্প্রতি প্রকাশিত ‘সিবিএস নিউজ’ ও ‘ইউগভ’-এর এক যৌথ জরিপে দেখা গেছে, দেশটির দুই-তৃতীয়াংশ নাগরিকই মনে করেন এই যুদ্ধ কোনো যৌক্তিক প্রয়োজনে নয়, বরং নীতিগতভাবে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো, রাজনৈতিক মতাদর্শ নির্বিশেষে ৯২ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন এই সংঘাত যত দ্রুত সম্ভব শেষ করা জরুরি।
গত ১৭ থেকে ২০ মার্চ পর্যন্ত ৩ হাজার ৩৩৫ জন প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিকের ওপর পরিচালিত এই অনলাইন জরিপে দেখা গেছে, ৬০ শতাংশ মানুষ ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপের বিরোধিতা করছেন। মাসের শুরুতে এই হার ছিল ৫৬ শতাংশ, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ মার্কিনিদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া বাড়ছে।
জরিপের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৬৮ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এই যুদ্ধের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করতে ব্যর্থ হয়েছে। এছাড়া ৫৭ শতাংশ মানুষ সরাসরি মত দিয়েছেন যে, এই যুদ্ধ আমেরিকার জন্য বিপর্যয়কর পরিণাম বয়ে আনছে। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৬৬ শতাংশ একে ‘ইচ্ছাকৃত যুদ্ধ’ এবং মাত্র ৩৪ শতাংশ ‘প্রয়োজনীয় যুদ্ধ’ বলে অভিহিত করেছেন।
রাজনৈতিক বিভাজনের চিত্রটিও বেশ স্পষ্ট। ৯২ শতাংশ ডেমোক্র্যাট এবং ৭৩ শতাংশ স্বতন্ত্র ভোটার এই যুদ্ধকে অপ্রয়োজনীয় মনে করলেও, ৬৭ শতাংশ রিপাবলিকান ভোটার এখনো একে সমর্থন করছেন। তবে সংঘাত নিরসনের প্রশ্নে দুই পক্ষই একমত।
যুদ্ধের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে ভিন্নধর্মী অগ্রাধিকার দেখা গেছে। প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ ইরানের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন। ৭৩ শতাংশ উত্তরদাতা চান ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি চিরতরে বন্ধ হোক এবং ৬৮ শতাংশের মতে অন্য দেশের বিরুদ্ধে ইরানের সামরিক হুমকি বন্ধ করা উচিত।
তবে ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন বা ‘রেজিম চেঞ্জ’-এর বিষয়ে মার্কিনিরা বিভক্ত। মাত্র ৪৯ শতাংশ ইরানপন্থী ভোটার নতুন নেতৃত্ব দেখতে চান, বাকি ৫১ শতাংশ বর্তমান ব্যবস্থার পরিবর্তনের কোনো প্রয়োজনীয়তা দেখছেন না। বর্তমান পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রশাসনের ওপর অভ্যন্তরীণ এই জনচাপ যুদ্ধের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
Leave a comment