জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সম্মুখ সারির নেতা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার চার্জশিট আগামী ৭ জানুয়ারির মধ্যেই আদালতে দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি। আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং বিচারিক প্রক্রিয়ায় আর কোনো বিলম্ব হবে না বলে আশ্বাস দিয়েছে সরকার।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি। অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির পাশাপাশি আলোচিত কয়েকটি মামলার অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়।
সভা শেষে নাসিমুল গনি বলেন, “হাদি হত্যা মামলার চার্জশিট ৭ জানুয়ারির মধ্যে ইনশাআল্লাহ অবশ্যই আমরা দিয়ে দেব । চার্জশিট চূড়ান্তভাবে প্রস্তুত হয়েছে। আমরা শেষবারের মতো সবকিছু পর্যালোচনা করছি, দেখেই ফাইনাল চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, আমরা একটু দেখছি। দেখে ইনশাআল্লাহ ফাইনাল চার্জশিট চলে যাবে।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট সড়কে নির্বাচনী প্রচারণাকালে ভয়াবহ হামলার শিকার হন শরিফ ওসমান হাদি। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, চলন্ত একটি মোটরসাইকেল থেকে দুর্বৃত্তরা রিকশায় থাকা হাদিকে লক্ষ্য করে মাথায় গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি গুরুতর আহত হন।
হামলার পরপরই তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরিবারের সিদ্ধান্তে তাকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতাল—এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর দুপুরে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে কয়েক দিন আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকার পর ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। তার মৃত্যুর খবরে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ দেশের বিভিন্ন স্তরে গভীর শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
মৃত্যুর পরদিন ১৯ ডিসেম্বর হাদির মরদেহ দেশে আনা হয়। ২০ ডিসেম্বর বাদ জোহর জানাজা শেষে তাকে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে দাফন করা হয়। তার জানাজায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষের ঢল নামে।
এই হত্যাকাণ্ডের পর দেশজুড়ে বিচার দাবিতে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়। বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন ও রাজনৈতিক দল দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানায়।
সরকারের পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছে, হাদি হত্যা মামলার তদন্তে কোনো ধরনের শৈথিল্য দেখানো হবে না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ ঘোষণায় সেই অবস্থান আরও স্পষ্ট হলো। চার্জশিট নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাখিল হলে মামলাটির বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার পথ তৈরি হবে বলে মনে করছেন আইন সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে এ ধরনের আলোচিত হত্যাকাণ্ডের বিচার দৃশ্যমান হলে তা শুধু জনমনে আস্থা ফিরিয়ে আনবে না, বরং রাজনৈতিক সহিংসতার বিরুদ্ধে শক্ত বার্তাও দেবে। এখন দেখার বিষয়, চার্জশিট দাখিলের পর বিচারিক প্রক্রিয়া কত দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়।
Leave a comment