আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি দৃঢ়ভাবে আশ্বাস দিয়েছেন, বহুল আলোচিত শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদেই শেষ করা হবে।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। তিনি জানান, নির্বাচনকে সামনে রেখে গোয়েন্দা নজরদারি ও পুলিশি তৎপরতা আগের চেয়ে আরও জোরদার করা হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলা মাথাচাড়া দিতে না পারে।
হাদি হত্যাকাণ্ডের অগ্রগতি সম্পর্কে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, মামলাটির তদন্ত দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে এবং খুব শিগগিরই চার্জশিট দাখিল করা হবে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি বলেন, “এই সরকার দায়িত্বে থাকা অবস্থাতেই বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে—এ বিষয়ে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
নির্বাচনী পরিবেশ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ রাখতে রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও সাধারণ নাগরিকদের সহযোগিতা কামনা করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সব আইন ও বিধি-বিধান কঠোরভাবে মানতে হবে। কেউ ভোটের পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
তিনি আরও জানান, দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানো ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। বৈঠকে গুজব প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার ভাষ্য অনুযায়ী, চলমান ‘ডেভিল হান্ট–২’ অভিযানে এখন পর্যন্ত ১৪ হাজার ৫৬৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি বলেন, অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। তবে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে মানবাধিকার ও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের বিষয়েও বাহিনীকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো ফ্যাসিস্ট শক্তির এজেন্ট যেন রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরে অনুপ্রবেশ করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। নির্বাচনকে ঘিরে বিভাজন ও সহিংসতা উসকে দেওয়ার অপচেষ্টা মোকাবিলায় রাজনৈতিক সচেতনতা জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা পরিকল্পনা, ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সুরক্ষা এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তথ্য বিনিময় ও সমন্বয় বাড়ানোর সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে, হাদি হত্যার বিচার দ্রুত শেষ করার প্রতিশ্রুতি এবং নির্বাচন সামনে রেখে কঠোর আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার ঘোষণা রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এখন নজর থাকবে—এই প্রতিশ্রুতি ও পরিকল্পনার বাস্তবায়ন কতটা কার্যকরভাবে প্রতিফলিত হয়।
Leave a comment