সাইপ্রাসে গত জুলাই মাসে সংঘটিত ভয়াবহ দাবানলের সূত্রপাত হয়েছিল অসাবধানতাবশত ফেলে দেওয়া একটি সিগারেটের আগুন থেকে। যুক্তরাষ্ট্রের অ্যালকোহল, টোব্যাকো, ফায়ারআর্মস অ্যান্ড এক্সপ্লোসিভস ব্যুরো (এটিএফ) গতকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়। এতে উল্লেখ করা হয়, পাহাড়ি এলাকার মালিয়া ও আর্সোস গ্রামের সংযোগ সড়কের ধারে বহু সিগারেটের অবশিষ্টাংশ পাওয়া গেছে, যা দাবানলের সূচনাবিন্দু হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘটনার সময় পরিবেশ ছিল আগুন লাগা ও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার জন্য অত্যন্ত অনুকূল। প্রবল বাতাস, শুষ্ক আবহাওয়া ও তীব্র তাপমাত্রা সিগারেটের আগুনকে ভয়াবহ দাবানলে রূপ দেয়। সে সময় তাপমাত্রা ছিল প্রায় ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আর্দ্রতা ছিল খুবই কম এবং বাতাসের গতি ছিল তীব্র। এসব কারণে পাহাড়ি এলাকায় অল্প আগুনও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
ভয়াবহ ওই দাবানলে প্রায় ১০০ বর্গকিলোমিটার বনাঞ্চল পুড়ে যায়, সাত শতাধিক স্থাপনা ধ্বংস হয় এবং প্রাণ হারান অন্তত দুইজন। আগুন থেকে বাঁচতে গাড়িতে পালানোর চেষ্টা করা এক বৃদ্ধ দম্পতির গাড়ি পাহাড়ি সড়কের ধারে উদ্ধার করা হয়।
প্রায় ২৫০ জন অগ্নিনির্বাপণকর্মী ও ১৪টি বিমান দুই দিন ধরে নিরলসভাবে কাজ করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। তবে সাইপ্রাস সরকার জানায়, টানা তিন শীত মৌসুমে কম বৃষ্টিপাত, তীব্র গরম এবং প্রবল বাতাস দাবানলকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছিল।
দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোস ক্রিস্টোডুলিদেসের অনুরোধে এটিএফের একটি দল সাইপ্রাসে গিয়ে ১০ দিনব্যাপী তদন্ত চালায়। তদন্তে প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা, ছবি, ভিডিও ও ফায়ার সার্ভিসের তথ্য বিশ্লেষণ করে দাবানলের প্রকৃত উৎস চিহ্নিত করা হয়।
এদিকে, আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা ‘ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন’ জানিয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট অস্বাভাবিক তাপপ্রবাহ ও বৃষ্টির ঘাটতি চলতি বছর ইউরোপে দাবানলের তীব্রতা বাড়িয়েছে। ২০২৫ সালকে ইউরোপের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ দাবানলের বছর হিসেবে উল্লেখ করেছে তারা। এ বছর তুরস্ক, গ্রিস ও সাইপ্রাসে দাবানলের তীব্রতা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২২ শতাংশ বেশি ছিল। এতে অন্তত ২০ জন প্রাণ হারান, প্রায় ৮০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং অন্তত ১০ লাখ হেক্টর বনভূমি আগুনে ভস্মীভূত হয়।
Leave a comment