লালমনিরহাট-২ (আদিতমারী-কালীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুলের নামে ভিজিএফ চালের ৩০ শতাংশ ভাগ দাবি করার একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। অডিওতে কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শামসুজ্জামান সবুজকে মদাতি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বিপ্লব হোসেনের কাছে এই ভাগ দাবি করতে শোনা যায়।
ফেসবুকে সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া ওই কল রেকর্ডে সবুজ ইউপি চেয়ারম্যানকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘এমপি সাহেবের থার্টি পার্সেন্ট আপনি বুঝিয়ে দিয়েছেন?’ উত্তরে চেয়ারম্যান জানান, তারা মিটিং করেছেন এবং ইউএনও প্রতিনিধি দেবেন। কল রেকর্ডে ক্ষুব্ধ কণ্ঠে সবুজ আরও বলেন, ‘বিনা ভোটের এমপি যখন ছিল, তাদের সুন্দরভাবে বুঝাইয়া দিছেন। আমরা কিন্তু বিনা ভোটে হই নাই। আমরা অতীত ভুলি নাই। আমাদের বরাদ্দ নিয়ে আপনি কীভাবে মিটিং করেন? ১০০৩টি টোকেন বুঝিয়ে দেবেন। সবুজকে চেনা লাগবে না।’
ভিজিএফ চালের এই ভাগ বাটোয়ারা এবং কল রেকর্ড নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বিপ্লবের মন্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গ্রাম পুলিশ সদস্য জানিয়েছেন, সম্প্রতি নাশকতার মামলায় চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলমকে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
অন্যদিকে, অডিও রেকর্ডের বিষয়টি অস্বীকার করে কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শামসুজ্জামান সবুজ বলেন, ‘ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া কল রেকর্ডটি আমার নয়। ওই চেয়ারম্যানের সঙ্গে আমার কোনো কথাই হয়নি। আমি দীর্ঘ ১৭ বছর জনগণের অধিকার আদায়ে লড়াই করেছি।’ তিনি আরও বলেন, এলাকায় কোনো অনিয়ম হচ্ছে কি না, সেদিকে সাংবাদিকদের নজর দিতে একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে।
কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম জানান, ‘এমপির নামে ৩০ শতাংশ চাল চাওয়ার বিষয়টি আমি শুনেছি। জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দও এ বিষয়ে অবগত। তারা দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।’
লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুলের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি বাইরে আছি, আপনি ওনার (সবুজ) সঙ্গে কথা বলেন’—এবং কলটি কেটে দেন।
Leave a comment