যুদ্ধের ভয়াবহতার মধ্যেই জন্ম হয়েছিল ছোট্ট মোহাম্মদের। কিন্তু মাত্র ১৩ মাস বয়সেই সেই যুদ্ধেই প্রাণ হারাতে হলো তাকে। গাজা উপত্যকার বাসিন্দা আফনান আল-গানাম ও তার শিশুপুত্র মোহাম্মদ ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান হামলায় নিহত হয়েছে।
গত মঙ্গলবার সাহরির সময় ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান একের পর এক বোমা বর্ষণ করে গাজায়। এতে নারী ও শিশুসহ চার শতাধিক ফিলিস্তিনি নিহত হন। এই হামলার মধ্যেই মাটির নিচে চাপা পড়ে যান সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা আফনান ও তার শিশু সন্তান মোহাম্মদ।
আফনানের স্বামী আলা আবু হেলাল এখনো সেই ধ্বংসস্তূপের সামনে দাঁড়িয়ে শোকে পাথর হয়ে আছেন। খান ইউনিসের নাসের হাসপাতালের সামনে কাপড়ে মোড়ানো সন্তানের নিথর দেহ কোলে নিয়ে তিনি বলেন, আমার সন্তান যুদ্ধের সময় জন্মেছিল, যুদ্ধেই শহীদ হলো।
আবু হেলাল জানান, হামলার সময় তিনি গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর রাফায় গিয়েছিলেন। সেখানে তাদের ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি থেকে কিছু অবশিষ্ট আছে কি না, তা দেখতে গিয়েছিলেন। ফিরে এসে দেখেন, তার পরিবার আর বেঁচে নেই। তিনি বলেন, আমাকে একা রেখে সবাই চলে গেল। আমার অনাগত সন্তানও মারা গেছে।
২০২৩ সালের মে মাসে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় আবু হেলালের পরিবার রাফা ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়। যুদ্ধবিধ্বস্ত এই এলাকায় বারবার আশ্রয় বদল করেও নিরাপদ থাকতে পারেননি তারা।
গাজায় চলমান সংঘাতের মধ্যে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ আবারও ভয়াবহ হামলার হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেন, যে হামলা আসছে, তা আগে কেউ কখনো দেখেনি।
ইসরায়েলি বাহিনী গাজার কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ নেতজারিম করিডর পুনর্দখল করেছে এবং সেখানে নতুন করে সেনা মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে। এই করিডরটি গাজাকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছে, যার ফলে ফিলিস্তিনিদের পলায়ন ও নিরাপদ আশ্রয়ের পথও ক্রমশ সংকুচিত হয়ে আসছে।
১৫ মাস ধরে চলা এই যুদ্ধে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের একটি বিশাল অংশ নারী ও শিশু। গাজার সাধারণ মানুষ আজ দিশেহারা—পালিয়েও তারা রক্ষা পাচ্ছে না। আবু হেলালের কণ্ঠে সেই অসহায়ত্বের প্রতিধ্বনি— পরিবার ও শিশুদের নিরাপদ রাখতে আমরা পালিয়ে যাই, কিন্তু তাও তারা বাঁচতে পারলো না। সবাই মরে গেল।
Leave a comment